যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের পর কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৈঠকে বিতর্কিত ডানপন্থী কর্মী লরা লুমারের উপস্থিতির পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ লুমার, ট্রাম্পের কাছে কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। খবর: গার্ডিয়ান।
ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, হোয়াইট হাউজ অন্তত তিনজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ব্রায়ান ওয়ালশ, আইন বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর থমাস বুডরি এবং প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর ডেভিড ফিথ।
সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই মূলত তাদের সরানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা ছয় জন পর্যন্ত হতে পারে। জানা গেছে, লুমার বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে প্রায় ৩০ মিনিটের একটি বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
বৈঠকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াল্টজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি সিগন্যাল গ্রুপ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সামরিক হামলার সংবেদনশীল তথ্য ছিল।
পরবর্তীতে সেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। পলিটিকো এবং ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াল্টজ তার ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি কাজকর্ম পরিচালনা করতেন।
বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স, চিফ অব স্টাফ সুসি উইলস এবং যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াংও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টায় ট্রাম্পের সহযোগী হিসেবে পরিচিত প্রতিনিধি স্কট পেরিও সেখানে ছিলেন।
লুমার এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যালেক্স ওয়াংয়ের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ওয়াংয়ের স্ত্রী ডেমোক্রেটিক প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগে কাজ করার কারণে তিনি এমনটা করেন। লুমার অভিযোগ করেন, ওয়াং ইচ্ছাকৃতভাবে আটলান্টিকের সম্পাদক-ইন-চিফ জেফরি গোল্ডবার্গকে সংবেদনশীল চ্যাটে যুক্ত করেছেন, যা চীনের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিব্রত করার একটি কৌশল ছিল।
লুমার অতীতেও বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে, হোয়াইট হাউজের বিতর্কিত কিছু পদক্ষেপের কারণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি, কমলা হ্যারিসের প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান