মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এর কারণ হলো, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এবং টিকাবিরোধী প্রচারণা। টেক্সাসে সম্প্রতি একজন ৬ বছরের শিশুর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো টিকাকরণ।
বিশ শতকের শুরুতে, হাম একটি মারাত্মক রোগ ছিল। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে মারা যেত। ১৯৫০ এর দশকে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা মৃত্যুর হার কিছুটা কমিয়েছিল, তবে তখনও বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন মারা যেত।
হামে আক্রান্ত হয়ে মস্তিষ্কের ক্ষতি বা বধিরতার মতো সমস্যাও দেখা দিত।
১৯৬৩ সালে প্রথম কার্যকরী হামের টিকা আবিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে, ১৯৬৮ সালে উন্নতমানের একটি টিকা তৈরি করা হয়। এর ফলে, কয়েক বছরের মধ্যে হামের ঘটনা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়।
কিন্তু, টিকা আবিষ্কারই যথেষ্ট ছিল না। টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, বিশেষ করে বিদ্যালয়ে শিশুদের টিকাদানে শিথিলতা দেখা যায়। অনেক পরিবারে টিকার উচ্চ মূল্য এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব ছিল।
১৯৯০ এর দশকে হামের একটি বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে প্রায় ৫৫,০০০ এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১২৩ জন মারা গিয়েছিল। এই ঘটনার পর, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) এবং আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স দুটি ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করে।
১৯৯৪ সালে, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করা হয়।
এই পদক্ষেপগুলোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল। তবে, এরপরও কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কিছু ভুল তথ্যের কারণে, অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের টিকা দিতে দ্বিধা বোধ করতে শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভুল তথ্য ছড়াতে থাকে, যা টিকাবিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বর্তমানে, অনেক রাজ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। এই ছাড়ের কারণে, কিছু কিছু অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের একটি অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধ করতে হলে টিকাদান কর্মসূচী জোরদার করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুল তথ্য দূর করা অপরিহার্য।
অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে যে টিকা শিশুদের জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। আমাদের দেশেও টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে চলছে। তবে, টিকাদান সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং কুসংস্কার দূর করতে হবে।
টিকাদান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক