মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Department of Defense – DOD)-এর পরিদর্শক জেনারেল, দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য সিগন্যাল নামক একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছেন।
বিশেষভাবে, ইয়েমেনে চালানো সামরিক অভিযান সংক্রান্ত গোপন তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (উল্লেখযোগ্য তারিখে) এই তদন্তের ঘোষণা আসে।
জানা গেছে, মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটি, বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই তদন্তের আহ্বান জানায়। অভিযোগ উঠেছে, ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলার সময় এবং ব্যবহৃত বিমানের মডেলসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভবত শ্রেণীবদ্ধ (classified) কিছু তথ্য সিগন্যাল গ্রুপের একটি চ্যাটে আদান-প্রদান করা হয়েছে।
এই চ্যাটে একজন সাংবাদিকও যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তদন্তকারীরা মূলত দেখবেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের ওই কর্মকর্তার বাণিজ্যিক মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, শ্রেণীবিন্যাস এবং তথ্যের সংরক্ষণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কিনা।
যেহেতু চ্যাটটিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (টাইমার) সেট করা ছিল, তাই তথ্য সংরক্ষণেও নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, প্রতিরক্ষা বিভাগের ওই কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি কাজে এই ধরনের মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বিভাগের নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা।
রিপাবলিকান সিনেটর এবং সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার ও ডেমোক্রেট সদস্য জ্যাক রিড, আটলান্টিক পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জেফরি গোল্ডবার্গকে নিয়ে গঠিত একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে ইয়েমেন বিষয়ক আলোচনা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।
এই আলোচনার পরই তাঁরা তদন্তের জন্য আবেদন জানান। সেনেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আলোচনায় যদি সত্যিই ইয়েমেনে চালানো সামরিক অভিযান সম্পর্কিত শ্রেণীবদ্ধ তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে, তাহলে অনিরাপদ নেটওয়ার্কে কীভাবে এমন গোপনীয় তথ্য আলোচনা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
সেই সঙ্গে, যাদের এই তথ্য জানার অধিকার নেই, তাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কিনা, সেটিও উদ্বেগের বিষয়।” তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান