যুক্তরাজ্যের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্ণবাদী বার্তা প্রচারের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন্ট-এর ম্যানস্টন প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য ব্যবহৃত একটি সরঞ্জামের মাধ্যমে এই বিদ্বেষপূর্ণ বার্তাটি আসে। এতে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি চরম অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়।
জানা গেছে, হোম অফিসের ঠিকাদার, মিটি (Mitie)-র কর্মীরা এই রেডিওগুলির মাধ্যমে ওই বার্তাটি প্রচার করে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হোম অফিস এবং মিটি উভয়পক্ষই। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেডিও প্রযুক্তির কারণে বার্তা প্রেরণকারীর শনাক্তকরণ কঠিন হবে।
ম্যানস্টনে কর্মরত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, “দুপুর তিনটা নাগাদ রেডিওতে শোনা যায়, ‘তোমরা বিদায় হও, যেখানে এসেছ, সেখানে ফিরে যাও।’ আমি আগে কখনো আমাদের রেডিওতে এমন বার্তা শুনিনি।” হোম অফিস সূত্রে খবর, ঘটনার পর ঠিকাদারদের রেডিও আপগ্রেড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বার্তাগুলো চিহ্নিত করা যায়।
ছোট নৌকায় চ্যালেন পাড়ি দিয়ে ম্যানস্টনে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকেই পেট্রোলের পোড়া ক্ষত ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অনেক শরণার্থী তাদের নিজ দেশে এবং সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা উচিত।
আশ্রয়প্রার্থীদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার পরিচালক বলেছেন, “এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। ম্যানস্টনে আসা মানুষগুলো আমাদের সাহায্য চাইছে। আমরা আশা করি, সরকার তাদের ঠিকাদারদের কার্যক্রমের দিকে নজর দেবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি সম্মানজনক ব্যবস্থা তৈরি করবে।”
মিটি কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এই ধরনের ভাষা ব্যবহারের তীব্র নিন্দা করে এবং ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করছে। ইতোমধ্যে, নতুন একটি রেডিও ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যাপারে হোম অফিসের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ম্যানস্টন কেন্দ্রটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত ভিড়, রোগ বিস্তার এবং কর্মীদের দ্বারা সহিংসতার অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। এর আগে, মিটির কর্মীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি, কর্মীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বর্ণবাদী মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান