শিরোনাম: যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ জনপদে নেকড়ে আতঙ্ক: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন সংকট।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো, ওরেগন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে নেকড়ে প্রজাতির প্রাণী পুনরায় ফিরিয়ে আনার (reintroduction) প্রক্রিয়া বর্তমানে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা এবং জীবিকার উপর এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।
বিশেষ করে, মেক্সিকান ধূসর নেকড়ে (Mexican gray wolves) নামক একটি বিরল প্রজাতির আক্রমণে গৃহপালিত পশু এবং পোষ্য প্রাণীর মৃত্যু হওয়ায় গ্রামীণ জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নেকড়ের ভয়ে মানুষজন এখন তাদের পোষা প্রাণী এবং শিশুদের প্রতি আরও বেশি সতর্ক হচ্ছেন। অনেক এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং নেকড়ে তাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছেন।
এই পরিস্থিতিতে ক্যাটরন কাউন্টিসহ নিউ মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারির কথা বিবেচনা করছে। স্থানীয় কমিশনারগণ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন এবং নেকড়ে তাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউ মেক্সিকো ন্যাশনাল গার্ডের সাহায্য চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
ওরেগনের লেক কাউন্টিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানকার গবাদি পশু পালনকারীরা তাদের পালের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
কেউ কেউ রাতের বেলা পশুদের উপর নজর রাখার জন্য নাইট ভিশন গগলস কিনছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা এবং মডোক কাউন্টিতেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
কলোরাডোতে নেকড়ে পুনরায় প্রবর্তনের বিরুদ্ধে ভোট চেয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেকড়ে পুনরায় প্রবর্তনের ফলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য রক্ষার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং পশু পালনকারীরা তাদের ক্ষতির জন্য সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন, অন্যদিকে, পরিবেশবিদরা বলছেন, এই প্রজাতির নেকড়েরা মানুষের উপর আক্রমণ করে, এমন নজির নেই।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অ্যারিজোনা এবং নিউ মেক্সিকোতে বর্তমানে অন্তত ২৮৬টি মেক্সিকান ধূসর নেকড়ে বসবাস করছে। গত বছর, নেকড়েদের আক্রমণে ৯৯টি গবাদি পশু মারা গেছে বলে জানা গেছে, যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের বছরগুলোর তুলনায় এই সংখ্যাটি ধীরে ধীরে কমছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপকরা নেকড়েকে লোকালয় থেকে দূরে রাখতে গত বছর ২৯০টি অভিযান পরিচালনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এই সংকট বাংলাদেশের জন্যও শিক্ষণীয়। সুন্দরবনের বাঘ কিংবা লোকালয়ে হাতির উপদ্রবের মতো ঘটনাগুলোও আমাদের দেশে মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতের উদাহরণ।
উভয় ক্ষেত্রেই, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে একটি সমন্বয় তৈরি করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: Associated Press