আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশৈলী এবং আধুনিকতার এক অসাধারণ মিশ্রণ নিয়ে মঞ্চে এসেছে ‘ওয়েক’ (Wake)। ডাবলিন ভিত্তিক ‘দিসিসপপবেবি’ (Thisispopbaby) থিয়েটার কোম্পানির পরিবেশনায় এই অনুষ্ঠানটি বর্তমানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
লন্ডনের পিকক থিয়েটারে (Peacock Theatre) সফলভাবে মঞ্চস্থ হওয়ার পর, এটি এখন ম্যানচেস্টারের অ্যাভিভা স্টুডিওজে (Aviva Studios) দর্শকদের মন জয় করতে প্রস্তুত।
‘ওয়েক’ মূলত জীবনের উত্থান-পতন, মৃত্যু এবং সমাজের মানুষের পুনর্মিলনের গল্প বলে।
এটি আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়েক’ সংস্কৃতির একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে। ‘ওয়েক’ হলো কারো মৃত্যুর পর শোক পালন এবং মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানে শোকের আবহ থাকলেও, জীবনের উদযাপনও থাকে। ‘ওয়েক’ যেন জীবনের গভীরতা এবং সমাজের মানুষের বন্ধনকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছেন এক ঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইরিশ নৃত্যশিল্পী মাইকেল রবারসন। তাঁর নাচের কৌশল এবং প্রাণবন্ততা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
এছাড়াও ছিলেন ভেনেজুয়েলার পোল ডান্সার লিসেট ক্রোল, যিনি শারীরিক কসরতের মাধ্যমে মঞ্চে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। ডমিনিকান রিপাবলিকের ব্রেক ডান্সার ক্রিস্টিয়ান ইমানুয়েল ডিরোসিও-এর নাচের মুদ্রাও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফেলিস্পিকস-এর পরিবেশনা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের পরিবেশনা দর্শকদের উপলব্ধিকে নাড়া দিয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে লাইভ মিউজিক পরিবেশন করেছেন ড্যারেন রচে (অ্যাকর্ডিয়ান) এবং লুসিয়া ম্যাক পার্টলিন (ফ্লিডল)। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।
‘ওয়েক’-এর পরিচালক জেনিফার জেনিংস এবং ফিলিপ ম্যাকমোহন-এর সুদক্ষ পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানটি দর্শকদের জন্য এক ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এমন মিশ্রণ খুব কমই দেখা যায়।
যদি আপনি লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাহলে ‘ওয়েক’ হতে পারে আপনার জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। জীবন, মৃত্যু এবং সমাজের মানুষের গভীর সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত এই অনুষ্ঠানটি আপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান