মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের অনিশ্চয়তা মেক্সিকোর শিল্পগুলিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এই উদ্বেগের কারণ হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকান পণ্যগুলির উপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ এবং গাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলি। এমনকি অ্যাভোকাডোর মতো কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। মেক্সিকোর ব্যবসায়ীরা এখন এই শুল্কের কারণে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনেক কোম্পানি তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বিকল্প স্থান নির্বাচনের কথা ভাবছে, কেউ কেউ আবার ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ারও চিন্তা করছে।
মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর জুয়ারেজের একটি কারখানার মালিক থর সালায়ানদিয়া। তিনি জানান, তাঁর কারখানায় উৎপাদিত যন্ত্রাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত ট্রাকগুলো সীমান্তে আটকা পড়ে ছিল। মার্কিন শুল্ক কর্মকর্তাদের মধ্যে শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধা ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি প্রায়শই পরিবর্তন হওয়ায়, মেক্সিকোর ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। গত মার্চ মাসের শুরুতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে, ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ), যা টি-এমইসি নামেও পরিচিত, এর আওতাভুক্ত পণ্যগুলি এপ্রিলের ২ তারিখ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত ছিল।
মেক্সিকোর কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত। দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড জানান, তারা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মিলে টি-এমইসি চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করার চেষ্টা করছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম টি-এমইসি চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে চান এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এই শুল্কের কারণে মেক্সিকোর অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন ভোক্তাদের উপর, যেখানে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। মেক্সিকোর কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা সবসময় মেক্সিকান কোম্পানিগুলোর পাশে আছেন।
টি-এমইসি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্কের এই অনিশ্চয়তা কেবল মেক্সিকো নয়, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এর ফলে অনেক দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও এই ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।