যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতে ১১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির ২৩টি রাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার (District of Columbia) তীব্র আপত্তি উঠেছে। রাজ্যগুলো দেশটির স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা বিভাগের (Department of Health and Human Services – HHS) বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
তাদের অভিযোগ, এই আকস্মিক তহবিল কর্তন ‘ক্ষতিকর’ এবং ‘বেআইনি’।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এইচএইচএস (HHS) গত মার্চ মাসে টিকাদান, সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদকাসক্তি বিষয়ক সেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিল করে দেয়। ফেডারেল সরকার এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জানায়, কোভিড-১৯ (Covid-19) মহামারী শেষ হওয়ার কারণে এই তহবিলের আর ‘প্রয়োজন নেই’।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এই তহবিল বাতিলের ফলে রাজ্য এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অর্থ পুনরুদ্ধার করা না হলে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, যা জনগণের স্বাস্থ্যখাতে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে।
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল (রাষ্ট্রীয় আইন বিষয়ক প্রধান) লেটিটিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কমানোর এই বেআইনি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের জীবনযাত্রায় আঘাত হানবে।
আবেদনকারীরা বলছেন, এই তহবিলগুলো কেবল কোভিড-১৯ এর সময়কালের জন্য ছিল না, বরং এগুলো আরও বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চাহিদা মেটানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাদের মতে, কংগ্রেসও এই তহবিলগুলো বাতিল করার কোনো নির্দেশ দেয়নি।
মামলাটিতে এইচএইচএস-এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আইন (Administrative Procedure Act) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনে সরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিধি-নিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এইচএইচএস কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এবং রাজ্যগুলোর ওপর এর প্রভাব বিবেচনা না করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং কয়েকশ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে, ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (USD) – এর বাংলাদেশি মুদ্রায় (BDT) আনুমানিক ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকার (১ কোটি ১৮ লক্ষ কোটি) বেশি।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান