মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং তার দল অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি কাজের জন্য সিগন্যাল নামক একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি এমনটাই জানা গেছে।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা বিষয়ক বিধি-নিষেধ লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, ওয়াল্টজের দল অন্তত ২০টি আলাদা সিগন্যাল গ্রুপ তৈরি করে, যেগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।
এইসব আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল ইউক্রেন, চীন, গাজা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন বিষয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা এই গ্রুপগুলোতে ‘সংবেদনশীল’ তথ্য আদান-প্রদান হতে দেখেছেন।
যদিও তাদের দাবি, কোনো ‘শ্রেণীভুক্ত’ (classified) তথ্য আদান-প্রদান হয়নি।
এই ঘটনার আগে, প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে ইয়েমেনে চালানো সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আদান-প্রদান হয়।
সেই ঘটনাতেও নিরাপত্তা বিষয়ক বিধি ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিগন্যালের মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করলে সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণে সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও, যদি কোনো কারণে ফোন হ্যাক হয়, তাহলে সামরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
হোয়াইট হাউজ অবশ্য এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানিয়েছে।
তাদের মতে, সিগন্যাল ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে এবং এটি সরকারের অনুমোদিত যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তবে, তারা এও জানিয়েছে যে, গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই বিতর্কের মধ্যেই জানা গেছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পাশে রয়েছেন এবং ওয়াল্টজের এক সাংবাদিককে ভুল করে একটি গোপন চ্যাটে যুক্ত করার ঘটনার তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান