**মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ: ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা**
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে তিনি ‘মুক্তি দিবস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন শুল্ক ঘোষণার মূল কারণ হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য দেশগুলো মার্কিন পণ্যের উপর ‘অন্যায্য’ শুল্ক আরোপ করে। তাই তিনি এর প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই শুল্কগুলো মূলত পারস্পরিক—অর্থাৎ, যেসব দেশ মার্কিন পণ্যের উপর বেশি শুল্ক বসায়, তাদের উপর যুক্তরাষ্ট্রও সেই অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করবে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি মার্কিন পণ্যের উপর ৩৯ শতাংশ শুল্ক বসায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসাবে।
চীনের ক্ষেত্রে, যেখানে ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান, সেখানে অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক যোগ করা হবে, যা মোট ৫৪ শতাংশে দাঁড়াবে।
এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
চীন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে যে, তারা পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক ঘোষণার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-র বিদ্যমান নিয়ম-কানুনও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার ২.২ শতাংশ। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় শুল্ক হার ২.৭ শতাংশ, চীনের ৩ শতাংশ এবং ভারতের ১২ শতাংশ।
তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক এই হিসাবের বাইরে।
এই শুল্কের আওতায় সকল দেশের আমদানি পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।
তবে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না, যেমন—তামা, ঔষধ, অর্ধপরিবাহী, কাঠ, সোনা, জ্বালানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় না এমন কিছু খনিজ পদার্থ।
এছাড়াও, বিদেশি গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শুল্কের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে, উন্নয়নশীল দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি বহির্বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল, তারা ক্ষতির শিকার হতে পারে।
যদিও, এই শুল্কের ফলে কিছু মার্কিন প্রস্তুতকারক উপকৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাবগুলো বিবেচনা করা দরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তাই, যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে তা ভোক্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে রপ্তানি বাণিজ্যেও সমস্যা হতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা