কারাগারে বন্দী তিউনিসিয়ার বিরোধী নেতা জাউহার বেন এমবারেক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদে এবং বিচারের শুনানিতে সরাসরি অংশ নিতে না পারার কারণে অনশন শুরু করেছেন। তার আইনজীবীর দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাউহার বেন এমবারেক, যিনি বিরোধী দল ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট এবং প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের নীতির সমালোচক সিটিজেনস অ্যাগেইনস্ট দ্য ক্যু গ্রুপের সদস্য, তার নিজের মামলার শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে চান। তিনি আদালতে হাজির হয়ে তার বিরুদ্ধে আনা ‘মিথ্যা অভিযোগ’ খণ্ডন করতে চান বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সামির দিলু।
তিনি জানান, বেন এমবারেক গত ৩০শে মার্চ থেকে অনশন শুরু করেছেন।
ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে আটক বেন এমবারেক, প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সমালোচক রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং অন্যান্যদের মধ্যে অন্যতম। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে ভিন্নমতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জানা গেছে, বেন এমবারেক সহ প্রায় ৪০ জন আসামীর বিচার চলছে, যাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিরোধী ষড়যন্ত্র’ এবং ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত’ থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই গণ-বিচারকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তিউনিসিয়ার মানবাধিকার রক্ষার লীগের প্রধান বাসসাম ত্রিফি এই বিচার প্রক্রিয়াকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় বিচারিক কেলেঙ্কারি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সাবেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ বেন এমবারেক সহ নয়জন আসামিকে আদালতের শুনানিতে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ মনে করে, তাদের মুক্তি দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
তবে, বেন এমবারেক জানিয়েছেন, ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাকে কার্যকরভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি একটি উপযুক্ত আদালত কক্ষে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করতে চান, যেখানে কারাগারের ভেতর থেকে আয়োজিত ‘নিয়ন্ত্রিত’ অধিবেশনে নয়, বরং সরাসরি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন।
ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরিস্টস (আইসিজে), একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, তিউনিসিয়ার বিচার বিভাগের সমালোচনা করে বলেছে যে আটককৃতদের অধিকারের ‘নিয়মিত লঙ্ঘন’ করা হচ্ছে, যা পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০১১ সালের বিপ্লবের পর দেশটির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। ২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন।
এরপর থেকে তিনি ডিক্রি জারি করে দেশ পরিচালনা করছেন। বেন এমবারেক সহ বর্তমানে অভিযুক্ত অনেকেই সাইদের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
আসামীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্টের চিফ অফ স্টাফ নাদিয়া আকাচা, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কামেল গুইজানি এবং বিরোধী দল এন্নাহদার সাবেক নেতা আবদেলহামিদ জেলাসি। সাইদ অভিযুক্তদের ‘দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যদিও তিনি বলেছেন, তিনি স্বৈরাচারী হবেন না, তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের জবাবদিহি করতে হবে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা