ব্রিটিশ সাংবাদিক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগান, যিনি তাঁর স্পষ্টভাষিতার জন্য সুপরিচিত, এবার ইউটিউবে একটি নতুন সাম্রাজ্য তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম থেকে দূরে সরে এসে তিনি ‘আনসেন্সরড’ ব্র্যান্ডের অধীনে ক্রাইম, ইতিহাস এবং খেলাধুলার মতো বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান তৈরি করতে চান।
মরগান জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ চ্যানেলটি এরই মধ্যে লাভজনক হয়েছে। এমনকি তিনি এই প্রকল্পের জন্য বেশ কিছু বিনিয়োগকারীও জুটিয়েছেন।
তাঁর লক্ষ্য হলো, এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো। তিনি চান, তাঁর মতো আরও কয়েকজন ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে, যারা বিভিন্ন বিষয়ে ‘আনসেন্সরড’ ব্র্যান্ডের অধীনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন।
পিয়ার্স মরগানের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ব্রিটেনের প্রখ্যাত ফুটবলার গ্যারি লিনেকারের ‘গোলহ্যাঙ্গার’ (Goalhanger) পডকাস্টের সাফল্য। লিনেকারের এই পডকাস্ট ‘দ্য রেস্ট ইজ হিস্টরি’, ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স’ এবং ‘দ্য রেস্ট ইজ এন্টারটেইনমেন্ট’-এর মতো সফল শো তৈরি করেছে।
মরগান আরও অনুপ্রাণিত হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রক্ষণশীল মিডিয়া কোম্পানি ‘দ্য ডেইলি ওয়্যার’ (The Daily Wire) থেকে।
এই পদক্ষেপটি কেবল পিয়ার্স মরগানের একার নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।
অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম ছেড়ে ইউটিউবের মতো নতুন প্ল্যাটফর্মে আসছেন। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউটিউব নির্মাতাদের স্বাধীনতা দেয় এবং সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
পিয়ার্স মরগান মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে এই ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো আরও বেশি জনপ্রিয়তা পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।
তিনি এমন কিছু তরুণ, স্পষ্টভাষী এবং সাহসী মানুষকে খুঁজছেন, যারা খবরকে আকর্ষণীয় করে দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, পিয়ার্স মরগান একসময় রুপার্ট মার্ডকের নিউজ ইউকে-র সঙ্গে কাজ করতেন।
তাদের সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি ছিল, যা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। যদিও নিউজ ইউকের এখনো ‘আনসেন্সরড’-এর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে, তবে এই ব্র্যান্ডের মালিক এখন মরগানের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘ওয়েক আপ প্রোডাকশনস’।
পিয়ার্স মরগানের এই নতুন যাত্রা ডিজিটাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ এবং এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
তাঁর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের জন্যও একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে।
তথ্য সূত্র: The Guardian