যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া অফিসের কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অফিসের (National Weather Service) প্রায় অর্ধেক অফিসে কর্মী সংকট চলছে।
বর্তমানে এই সংস্থাটির ২০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য রয়েছে, যেখানে এক দশক আগেও এই হার অনেক কম ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের এই ঘাটতি মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া অফিসের ১২২টি অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আটটি অফিসে ৩৫ শতাংশের বেশি কর্মী নেই। যাদের মধ্যে আরকানসাস এবং কেন্টাকিও রয়েছে, যেখানে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টি আঘাত হেনেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ২০ শতাংশ বা তার বেশি কর্মী সংকট একটি সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। কর্মীর অভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পূর্বাভাস দেওয়া এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মী সংকটের কারণে লুইসভিলের আবহাওয়াবিদরা সম্প্রতি টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে পারেননি। ফলে ভবিষ্যতের পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা তৈরিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ব্র্যাড কোলম্যানের মতে, পরিস্থিতি এখন সংকটজনক। তিনি বলেন, কর্মী সংকটের কারণে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন জাতীয় আবহাওয়া প্রধান লুইস উসেলিনিও এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে এই শূন্যপদের হার ছিল ৯.৩ শতাংশ।
কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একমাত্র আবহাওয়াবিদ এরিক সোরেনসেন জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মধ্য-পশ্চিমের আবহাওয়া অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ডেভেনপোর্ট-কোয়াড সিটিজ (Davenport-Quad Cities) অফিসের ৩৭.৫ শতাংশ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যেভাবে কর্মী ছাঁটাই চলছে, তাতে ভবিষ্যতে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের এই ঘাটতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সঠিক সময়ে সতর্কবার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা বিষয়টি বিবেচনা করি, তাহলে এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ, যেখানে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়মিত আঘাত হানে।
এখানে সঠিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া এবং সময়মতো সতর্কতা জারি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অফিসের জনবল সংকট হলে, পূর্বাভাস প্রদানে যেমন সমস্যা হবে, তেমনি দুর্যোগের সময় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়বে, যা জনগণের জীবনহানির কারণ হতে পারে।
তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস