পাখির ছবি তোলা এখন অনেকের কাছেই প্রিয় একটি শখ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বিদ্যমান, সেখানে পাখির ছবি তোলার আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। আর এই শখকে আরও উন্নত করতে বাইনোকুলার (binoculars) ও স্পটিং স্কোপের (spotting scope) জুড়ি নেই।
এই দুটি যন্ত্র পাখির ছবি তোলার অভিজ্ঞতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়, যা অনেক সময় সাধারণ চোখে দেখা সম্ভব হয় না।
বাইনোকুলার অনেকটা ব্যাকপ্যাকের মত, যা পাখি প্রেমীদের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, স্পটিং স্কোপ সাধারণত বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, যা দূরের পাখি ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করে।
উদাহরণস্বরূপ, সুন্দরবনের গভীরে বা টাঙ্গুয়ার হাওরের ধারে বসে পাখির ছবি তোলার সময় স্পটিং স্কোপ ব্যবহার করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
বাইনোকুলার ও স্পটিং স্কোপ কেনার সময় কিছু বিষয় মনে রাখতে হয়। যেমন – ম্যাগনিফিকেশন (magnification) বা কতগুণ বড় করে দেখা যাবে, লেন্সের ব্যাস, ভিউ ফিল্ড (field of view) বা কতটুকু জায়গা দেখা যাবে, ওজন এবং চোখের আরামের জন্য আই-রিলিফ (eye relief)।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ৮ থেকে ১০ গুণ ম্যাগনিফিকেশনযুক্ত বাইনোকুলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। স্পটিং স্কোপগুলোতে ম্যাগনিফিকেশন ক্ষমতা বেশি থাকে, যা ২০ থেকে ৬০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া, কাঁচের গুণাগুণ, আকার ও ওজন এবং চোখের আরামের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাইনোকুলার ও স্পটিং স্কোপ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সুপরিচিত কয়েকটি হলো – Swarovski, Nikon এবং Celestron।
Swarovski Optik NL Pure 10×42 বাইনোকুলার (প্রায় ১,৭০,০০০ টাকা) -এর কথা বলা যায়, যা হালকা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। এই বাইনোকুলার কম আলোতেও ভালো কাজ করে।
যারা ভ্রমণের সময় ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য Swarovski Optik NL Pure 8×32 (প্রায় ১,৩০,০০০ টাকা) বেশ উপযোগী, যা হালকা ও ছোট আকারের। Nikon Monarch M7 10×42 (প্রায় ৫০,০০০ টাকা) -এর মত মাঝারি দামের বাইনোকুলারও ভালো বিকল্প হতে পারে।
স্পটিং স্কোপের মধ্যে Swarovski Optik BTX Spotting Scope System (দাম বিভিন্ন কনফিগারেশনে প্রায় ৪,০০,০০০ থেকে ৬,০০,০০০ টাকা) -এর রয়েছে চমৎকার খ্যাতি। এই স্কোপে দুটি আইপিস (eyepiece) থাকায় এটি বাইনোকুলারের মত আরামদায়ক ভিউ প্রদান করে।
তুলনামূলকভাবে কম বাজেটের মধ্যে Nikon Prostaff 5 20-60x82mm Angled Body (দাম প্রায় ৬০,০০০ টাকা) বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া, Celestron Regal M2 20-60×80 mm ED Angled Zoom Spotting Scope (দাম প্রায় ১,০০,০০০ টাকা) -ও একটি ভালো বিকল্প।
বাইনোকুলার ও স্পটিং স্কোপ কেনার আগে নিজের প্রয়োজন ও বাজেট সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। কোথায়, কখন এবং কতটা দূরের পাখি দেখার জন্য এটি ব্যবহার করা হবে, তা বিবেচনা করতে হবে।
কেনার আগে বিভিন্ন মডেলের বৈশিষ্ট্যগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। বাজারে উপলব্ধ বিভিন্ন মডেলের মধ্যে তুলনা করে, নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত যন্ত্রটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।
আশা করা যায়, বাইনোকুলার ও স্পটিং স্কোপ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাখি প্রেমীরা তাদের ছবি তোলার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক