গ্রিনল্যান্ডে নির্বাচন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ও ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক
আর্টিক অঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির ভবিষ্যৎ এবং ডেনমার্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন দেশটির স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার আগ্রহও এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং অবস্থান একে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ডেনমার্কও এই নির্বাচনের দিকে গভীর মনোযোগ রাখছে। ডেনমার্ক একসময় গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশ হিসেবে শাসন করত। তাই গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের পরিবর্তন তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
নির্বাচনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনুইট আতাগাতিতি, যারা স্বাধীনতা সমর্থন করে এবং নালেরাখ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহী। এই দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলছে। নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিভেদও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে ডেনমার্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গ্রিনল্যান্ডের একটি ক্রায়োলাইট খনি থেকে ডেনমার্কের বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়াও, অতীতে ডেনমার্কের কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ, যেমন – নারীদের অজান্তে গর্ভনিরোধক ডিভাইস স্থাপন এবং গ্রিনল্যান্ডীয় পরিবারগুলোর উপর ‘অভিভাবকত্ব পরীক্ষা’র মতো ঘটনার কারণে সেখানকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অনেকখানি নির্ভর করছে। যদিও অনেকের ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হয়তো স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের মতো, স্বাধীনতা পেলে ডেনমার্কের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
গ্রিনল্যান্ডের একজন রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, বহির্বিশ্বের মনোযোগ এখন তাদের দিকে। তাই, বৈদেশিক নীতিতে দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করতে সেখানে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীও গ্রিনল্যান্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
সব মিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ডের এই নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান