জার্মানির পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক আলোচনা: ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি
জার্মানির আসন্ন চ্যান্সেলর ফ্রিয়েডরিখ মার্চ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইউরোপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি এটাও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান পারমাণবিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিকল্প হিসেবে এটিকে দেখা উচিত নয়। খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারমাণবিক সক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
জার্মানির নির্বাচনে মার্চ নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল জয়লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য তাদের অন্যান্য দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন নীতির প্রশ্নে গ্রিন পার্টির সঙ্গে তাদের সমঝোতায় আসতে বেগ পেতে হচ্ছে। সরকার গঠনের আলোচনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও, জার্মানির নতুন সরকারের সামনে অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অভিবাসন নীতি কঠোর করার বিষয়ে মার্চ তার দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তবে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম-কানুন মেনেই কাজ করতে চান।
জার্মানির এই পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক আলোচনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেছিল। তাই আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। তবে ন্যাটোর অস্ত্র ভাগাভাগি চুক্তিতে জার্মানি সহযোগিতা করে থাকে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান