উগান্ডা দক্ষিণ সুদানে সেনা পাঠিয়েছে, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে
দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা তাদের বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্স) পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার উগান্ডার সামরিক প্রধান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জুবাকে ‘নিরাপদ’ রাখতে সেনা পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জুবাই হলো দক্ষিণ সুদানের রাজধানী।
উগান্ডার এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
উগান্ডার সামরিক প্রধান মুহোজি কাইনেরুগাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “দুই দিন আগে আমাদের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা জুবা শহরে প্রবেশ করেছে, শহরটিকে নিরাপদ করতে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা, অর্থাৎ উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনী (ইউপিডিএফ), দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেবল সালভা কিরকে স্বীকৃতি দিই…তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে, তা উগান্ডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে! যারা এমনটা করবে, তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি সামরিক প্রধান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কতদিন তাদের এই সেনা সেখানে মোতায়েন থাকবে কিংবা দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ সুদানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা কির ও মাচারের মধ্যেকার সম্পর্ককে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এই দুই নেতা পাঁচ বছর ব্যাপী চলা গৃহযুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।
গত সপ্তাহে কিরের সরকার মাচারের অনুগত দুই মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে আটক করে। এছাড়া, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাসিরে দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনী এবং ‘হোয়াইট আর্মি’ নামক একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ডজন খানেক সেনা ও একজন জেনারেল নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট কির অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই যুদ্ধ ফিরে আসতে দেবেন না। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
জাতিসংঘ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির নেতাদের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, নাসির এবং বৃহত্তর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেছে জাতিসংঘ।
উগান্ডার এই সেনা পাঠানোর ঘটনাটি ২০১৩ সালের গৃহযুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেসময়ও উগান্ডা জুবাতে সেনা পাঠিয়েছিল কিরের বাহিনীকে সহায়তা করতে। যদিও ২০১৫ সালে সেই সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবে ২০১৬ সালে আবারও যখন সেখানে সংঘাত শুরু হয়, তখন পুনরায় সেনা মোতায়েন করা হয়।
দক্ষিণ সুদানে চলমান এই উত্তেজনার কারণে উগান্ডা উদ্বিগ্ন। কারণ, তাদের ধারণা, সেখানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে শরণার্থীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তাদের দেশে আশ্রয় নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। কয়েক মাস আগেও উগান্ডা তাদের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত পেরিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সেনা পাঠিয়েছিল। সেখানে রুয়ান্ডা সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা