1. [email protected] : adminb :
  2. [email protected] : Babu : Nurul Huda Babu
April 3, 2025 11:59 PM
সর্বশেষ সংবাদ:

আতঙ্কের খবর! জলবায়ুর পরিবর্তনে বিপর্যস্ত বিশ্বের বড় শহরগুলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট হয়েছে : Wednesday, March 12, 2025,

**বিশ্বের বড় শহরগুলোতে জলবায়ুর ‘হুইপ্ল্যাশ’, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কবলে কোটি কোটি মানুষ**

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক বড় শহরেই আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। একদিকে তীব্র বৃষ্টি, অন্যদিকে ভয়াবহ খরা—এই দুইয়ের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, যা ‘জলবায়ু হুইপ্ল্যাশ’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক দশকে বিশ্বের অনেক শহরেই আবহাওয়ার এই “বিপর্যয়কর পরিবর্তন” দেখা যাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের একশটির বেশি জনবহুল শহরের মধ্যে ৯৫ শতাংশ শহরেই হয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে, নয়তো কমেছে। এমনকি অনেক শহরে এক সময় খরা দেখা গেলেও, পরে অতিবৃষ্টি হয়েছে। আবার, কোনো কোনো শহরে অতিবৃষ্টির পর দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। লখনউ, মাদ্রিদ এবং রিয়াদের মতো শহরে গত ২০ বছরে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘটেছে।

এই পরিবর্তনের ফলে শহরগুলোতে বন্যা ও খরা বাড়ছে, যা সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, সুপেয় পানির অভাব, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও খাদ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে মানুষকে, বাড়ছে রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে করাচি ও খার্তুমের মতো দুর্বল অবকাঠামো ও দরিদ্র শহরগুলোতে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ইউরোপ, আরব উপদ্বীপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে খরা বাড়ছে, যেখানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ে বিশ্বের ৪.৪ বিলিয়নের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ছে, যা বন্যা ও খরা—উভয়কেই আরও বাড়িয়ে তুলছে। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, ফলে শুষ্ক সময়ে মাটি থেকে দ্রুত পানি শুষে নেয় এবং বৃষ্টির সময় আরও বেশি বৃষ্টি হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাটারিনা মাইকেলাইডিস বলেন, “আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে।” কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল সিঙ্গার এই পরিস্থিতিকে “বৈশ্বিক বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অধ্যাপক সিঙ্গার আরও বলেন, “আমরা যে শহরগুলো দেখেছি, তার অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে তা সবসময় অনুমান করা যাচ্ছে না। বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলোতে এর প্রভাব অনেক বেশি, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কা মোকাবিলা করা খুবই কঠিন। অনেক শহরেই পানির সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বন্যা প্রতিরোধের মতো সমস্যা রয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে পুরনো অবকাঠামো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানানসই নয়, আবার দরিদ্র দেশগুলোতে নতুন অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই গবেষণায় কেনিয়ার নাইরোবি শহরের পরিস্থিতি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে একসময় পানির অভাবে মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছিল, ফসল নষ্ট হয়েছিল এবং গবাদি পশু মারা গিয়েছিল। আবার অতিবৃষ্টির কারণে সবকিছু প্লাবিত হয়ে যায়। এতে শহরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পানি দূষিত হয় এবং মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানল দেখা গিয়েছিল, যেখানে প্রথমে বৃষ্টিপাতের কারণে গাছপালা বেড়ে ওঠে এবং পরে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন লাগে। মানুষের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।

গবেষকরা ১৯৮৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে ১১২টি বড় শহরের জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, বিশ্বের ১৭টি শহরে জলবায়ুর চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। চীন, ইন্দোনেশিয়া, টেক্সাসের কিছু অংশে এর প্রভাব বেশি। এছাড়া, বাগদাদ, ব্যাংকক, মেলবোর্ন ও নাইরোবিতেও এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শহরগুলোর প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ছে, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই শতাব্দীতে ২৪টি শহরে জলবায়ুর নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। কায়রো, মাদ্রিদ ও রিয়াদে শুষ্ক অবস্থা থেকে দ্রুত আর্দ্রতার দিকে পরিবর্তন হয়েছে। হংকং ও ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেও এই তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘ খরার কারণে পানি সংকট, খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের লখনউ ও সুরাট এবং নাইজেরিয়ার কানোতে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। বোগোটা, হংকং ও তেহরানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা হয়, যা ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি করে। এছাড়া, কলেরা ও আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

গবেষকরা শহরগুলোর সামাজিক দুর্বলতা এবং অবকাঠামোর মানও মূল্যায়ন করেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদানের খার্তুম, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ এবং জর্ডানের আম্মান। পাকিস্তানের করাচিও দুর্বল শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে অতিবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। ২০২২ সালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে করাচির ইব্রাহিম হায়দারি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনিসের পরিবারের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ইউনিস বলেন, “বৃষ্টির কারণে আমাদের দিনের পর দিন ভিজে থাকতে হয়েছে, কারণ আমাদের কোনো আশ্রয় ছিল না। আবহাওয়া সবকিছুকে প্রভাবিত করে। ভারী বৃষ্টি হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত [পরিষ্কার] পানি নেই। আমাদের এলাকার অবস্থা ভেঙে পড়ছে। ড্রেনেজের কাছের বাড়িগুলো বন্যায় ভেঙে যায়। আমাদের যদি যথেষ্ট টাকা থাকত, তাহলে আমরা এখানে থাকতাম না।”

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার মতো শহরগুলোতেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব—এগুলো এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তথ্য সূত্র: The Guardian

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2019 News 52 Bangla
Theme Customized BY RASHA IT