যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক, ইলন মাস্ক এবং তার ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা ‘ডগ’-কে সরকারি ব্যয় সংকোচনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৪ জন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের করা একটি মামলার অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মাস্ক এমন ক্ষমতা ব্যবহার করছেন যা শুধুমাত্র সিনেট কর্তৃক অনুমোদিত কর্মকর্তাদের থাকার কথা। বিচারক তানিয়া চুটকান তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, মাস্কের কর্তৃত্বের পরিধি স্পষ্ট করার জন্য রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে মাস্কের কার্যক্রম অসাংবিধানিকভাবে চলছে কিনা এবং ডগের কার্যকলাপ বন্ধ করা উচিত কিনা।
আদালতের নির্দেশে মাস্ককে ডগের কার্যক্রম সম্পর্কিত নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। মাস্ক নিজে ‘স্পেশাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি’ হওয়ায় তার আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস আরও জানায়, মাস্ক প্রেসিডেন্টের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্ক নিয়ে জনসম্মুখে ভিন্ন কথা শোনা যায়।
মামলার মূল বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে, সরকারি বিভাগের প্রধান হিসেবে যারা কাজ করেন, তারা ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত এবং সিনেট কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। মাস্ক সিনেট কর্তৃক অনুমোদিত না হয়েও ডগের প্রধান হিসেবে ফেডারেল সংস্থা ও প্রোগ্রামের ব্যয় হ্রাসের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তাকে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ এবং জনসাধারণের নথিপত্র প্রদর্শনের অনুরোধের মুখোমুখি করেছে।
হোয়াইট হাউস মাস্কের কার্যক্রম সম্পর্কিত আইনি অনুসন্ধানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবে বিচারক চুটকান বলেছেন, নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ এত ব্যাপক নয় যে এটি নির্বাহী বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
এই ঘটনা ডগের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাক্কা। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসির একজন ফেডারেল বিচারক রায় দিয়েছিলেন, ডগ এত বেশি ক্ষমতা ব্যবহার করছে যে এর রেকর্ড সম্ভবত জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে। বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ডগের ‘নজিরবিহীন’ ক্ষমতা এবং ফেডারেল সরকারের কাজে তার ‘অস্বাভাবিক গোপনীয়তা’ বিদ্যমান ছিল, যে কারণে একটি উদারপন্থী পর্যবেক্ষক দলের অনুরোধ করা হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি তাদের জমা দিতে হবে।
তথ্য সূত্র: The Guardian