এক সময়ের অচেনা, এখন আবার জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রিটেনের পুরনো তীর্থযাত্রা। কোভিড পরবর্তী সময়ে হাঁটাচলার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে আত্ম-অনুসন্ধানের এক নতুন ধারা।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে এখানকার গ্রামীণ পরিবেশে, এই তীর্থযাত্রার সংস্কৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
প্রাচীন এই তীর্থযাত্রাগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘গোল্ডেন ভ্যালি পিলগ্রিম ওয়ে’। এটি একটি প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ, যা দক্ষিণ-পশ্চিম হেয়ারফোর্ডশায়ারের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।
সবুজ মাঠ, পাহাড়ের সারি আর ওয়েলসের ব্ল্যাক মাউন্টেন-এর দৃশ্য এই পথের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। এই পথে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন গির্জা, যা তীর্থযাত্রীদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
হেয়ারফোর্ড ক্যাথেড্রাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা, ১৩২০ সাল থেকে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। এক সময়, এখানকার বিশপ থমাস কান্তিলুপকে সাধু ঘোষণা করার পর থেকেই এই স্থানটি তীর্থযাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংস্কার আন্দোলনের পর তীর্থযাত্রার চল কমে গেলেও, এখন আবার মানুষজন এই পথে আকৃষ্ট হচ্ছে। শুধু এই পথই নয়, গোল্ডেন ভ্যালি পিলগ্রিম ওয়ে-এর মতো আরও অনেক নতুন পথ তৈরি হচ্ছে, যা মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায়।
এই তীর্থযাত্রার ধারণা দিয়েছেন অ্যাবিডোর ডিনারি-র একজন গ্রামীণ পুরোহিত, সাইমন লকেট। তিনি ইতালিতে এক রূপান্তরকারী তীর্থযাত্রা করার পর এই ধরনের পথের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
সাইমনের মতে, আজকের দিনে হয়তো অনেকেই ধর্মভীরু নন, কিন্তু তারা আত্মার শান্তি খোঁজেন। প্রকৃতির মাঝে তারা সেই শান্তি খুঁজে পান।
এই যাত্রাপথে, পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিশ্রাম এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ। পথ চলতে চলতে স্থানীয় কসাইখানা ও বেকারি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করা যায়।
এখানকার স্থানীয় মানুষেরা, বিশেষ করে গির্জার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, তীর্থযাত্রীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাদের আতিথেয়তা এবং আন্তরিকতা এই যাত্রাকে আরও সুন্দর করে তোলে।
এখানকার স্থানীয় পাবগুলোতেও (Pub) তীর্থযাত্রীদের জন্য রয়েছে আন্তরিকতার ছোঁয়া। পাবগুলো যেন এক একটি স্থানীয় মিলনমেলা, যেখানে সবাই একসঙ্গে সময় কাটায়।
গোল্ডেন ভ্যালি পিলগ্রিম ওয়ে-এর যাত্রা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ দেয় না, বরং এটি আত্ম-অনুসন্ধানেরও একটি পথ। এই পথে হেঁটে, মানুষজন তাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা থেকে দূরে এসে শান্তি খুঁজে পান।
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে তারা নিজেদের নতুনভাবে আবিষ্কার করেন। এই যাত্রা শেষে, পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আসে, যা তাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক