যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইউরোপীয় পর্যটকদের আটকের ঘটনায় ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিককে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই মার্কিন সীমান্তরক্ষীরা আটক করে। এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণেচ্ছুদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
জানা গেছে, জার্মানির নাগরিক লুকাস সিলাফ নামের এক ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটক করে দীর্ঘ ১৬ দিন একটি আটক কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। সিলাফ তার মার্কিন বান্ধবী লেনন টাইলারের সঙ্গে মেক্সিকো থেকে ফিরছিলেন। টাইলারের ভাষ্যমতে, সিলাফকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোথায় থাকেন। সিলাফ উত্তর দেওয়ার পরেই তাকে আটক করা হয়। যদিও তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ দিনের পর্যটন ভিসার অনুমতি ছিল। পরবর্তীতে সিলাফকে মুক্তি দিলেও, তাকে জার্মানির টিকিট কেটে দেশে ফিরতে হয়।
একইভাবে, ২৬শে জানুয়ারী মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় জেসিকা ব্রোশে নামের আরেক জার্মান পর্যটককে আটক করা হয়। প্রায় দেড় মাস আটক থাকার পর অবশেষে তিনি মুক্তি পান। ব্রোশেকে একটি নির্জন সেলে এক সপ্তাহের বেশি সময় কাটাতে হয়েছে।
এছাড়াও, ওয়েলসের এক ব্যাকপ্যাকার এবং কানাডার এক নারীকেও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটকের পর মুক্তি পেতে বেশ কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের আটকের কোনো সুস্পষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষ জানায়নি। এমনকি তাদের আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থা ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি’র পরিচালক পেদ্রো রিওস জানান, পশ্চিমা দেশগুলো এবং কানাডার নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, অভিবাসন বিরোধী মনোভাবের কারণেই এমনটা ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের ভিসা অথবা ভ্রমণের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে, কতজন পর্যটককে এভাবে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে যারা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে ভ্রমণ করতে চান, তাদের মধ্যে ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসিএলএ) তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বসন্তের ছুটিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, ভ্রমণের সময় ভিসানীতি পরিবর্তন হতে পারে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকদের আটকের এই ঘটনাগুলো ভ্রমণকারীদের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেক পর্যটকই এখন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে দ্বিধা বোধ করছেন।
তথ্যসূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস।