ফ্লোরিডায় এক বৃদ্ধকে মৃত্যুদণ্ড, শিশু ও বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে
ঢাকা, [আজকের তারিখ] – যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ১৯৯৩ সালে এক শিশু ও তার বৃদ্ধা ঠাকুরমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ৬৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জেমসকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ফ্লোরিডার স্টার্কের একটি কারাগারে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, জেমসকে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, জেমসকে তিনটি ওষুধের মিশ্রণ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়। জেমস ১৯৮৩ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর ৮ বছর বয়সী টনি নিউনার এবং তার ৫৯ বছর বয়সী ঠাকুরমা বেটি ডিককে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডের আগে জেমস কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তার শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছিল এবং শরীর সামান্য কেঁপে ওঠে, এরপর তিনি নিস্তেজ হয়ে যান।
নিহত টনি নিউনারের ভাই জ্যারেড পিয়ারসন জানান, এই বিচারের মাধ্যমে তাদের পরিবার কিছুটা শান্তি খুঁজে পেয়েছে।
তিনি বলেন, “কিন্তু তার কারণে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হারিয়েছি। সে ছিল সম্পূর্ণভাবে শয়তান। সেই রাতটি ছিল বিভীষিকাময়।”
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ওকলাহোমায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যিনি একটি বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।
এছাড়া, এর আগে বুধবার আরিজোনায় এবং মঙ্গলবার লুইজিয়ানাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। লুইজিয়ানাতে প্রথমবারের মতো নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অঙ্গরাজ্যটিতে ১৫ বছর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত থাকার পর এই প্রথম তা কার্যকর করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জেমসের আপিল খারিজ করে দেওয়ার পরেই তার মৃত্যুদণ্ডের পথ খুলে যায়। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জেমসের মৃত্যুদণ্ডের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।
জানা যায়, জেমস নিহত বেটি ডিকের বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ঘটনার রাতে টনি নিউনারসহ আরও তিনজন শিশু সেখানে ছিল।
আদালতে পেশ করা তথ্যানুসারে, ঘটনার দিন জেমস একটি পার্টিতে ২৪ ক্যান বিয়ার পান করেন এবং কিছু মাদক সেবন করেন।
এরপর তিনি ডিকের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ডিকের শরীর ২১ বার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরে তার গহনা ও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান জেমস।
জেমস দোষ স্বীকার করলেও জুরিবোর্ডের ১১-১ ভোটে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জেমসের আইনজীবীরা বিভিন্ন সময়ে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে আপিল করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো খারিজ হয়ে যায়।
সম্প্রতি, ফ্লোরিডা সুপ্রিম কোর্ট জেমসের মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ইতিহাস, একাধিকবার মাথায় আঘাত পাওয়া এবং ২০২৩ সালে হার্ট অ্যাটাকের কারণে তার মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আদালত জানায়, জেমসের মানসিক অবস্থা মৃত্যুদণ্ড থেকে তাকে বাঁচাতে পারে না।
ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আগামী ৮ এপ্রিল মিশেল তানজি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তানজি ২০০০ সালে ফ্লোরিডা কিসের এক নারীকে হত্যা করেছিলেন।
তথ্য সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম