যুক্তরাজ্যের সবুজ-শ্যামল প্রান্তরে, যেখানে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া মিলেমিশে একাকার, সেখানে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ জগৎ – কটসওল্ডস। ইংল্যান্ডের এই মনোরম অঞ্চলে, পুরোনো পাথরের বাড়িগুলো যেন রূপকথার গল্পের সাক্ষী, আর শান্ত গ্রামগুলি প্রকৃতির কোলে বিশ্রাম নেয়।
যারা একটু অন্যরকম ভ্রমণের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য এখানে রয়েছে অসাধারণ কিছু হোটেল, যা আরাম ও আতিথেয়তার এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে।
কটসওল্ডস মূলত ছয়টি কাউন্টিজুড়ে বিস্তৃত, যা মধ্যযুগে পশমের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। এখানকার প্রতিটি গ্রাম যেন এক একটি জীবন্ত চিত্রকর্ম, যেখানে পুরোনো দিনের স্থাপত্য আজও বিদ্যমান।
এই অঞ্চলের হোটেলগুলো শুধু থাকার জায়গাই নয়, বরং এক একটি অভিজ্ঞতা। এখানকার স্থানীয় খাবার থেকে শুরু করে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ – সবকিছুই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে অতিথিদের জন্য।
আসুন, কটসওল্ডসের এমনই দশটি অসাধারণ হোটেলের সঙ্গে পরিচিত হই:
১. **দ্য পিগ ইন দ্য কটসওল্ডস:** সবুজ আর প্রকৃতির মাঝে, এখানকার প্রতিটি জিনিস স্থানীয়ভাবে তৈরি।
এখানকার রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত খাবারগুলো ২৫ মাইলের মধ্যে উৎপাদিত উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। ঘরগুলি ফুলের নকশা দিয়ে সজ্জিত, যা শান্তি এনে দেয়। এখানকার রাতের থাকার খরচ প্রায় ৩৪,০০০ টাকার মতো (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী)।
২. **দ্য রেক্টরি:** ১৮ শতকে নির্মিত এই বাড়িতে রয়েছে পুরনো দিনের স্থাপত্যের ছোঁয়া।
এখানে কাঠের মেঝে, পাথরের অগ্নিকুণ্ড, এবং অ্যান্টিক আসবাবপত্র অতিথিদের মুগ্ধ করে। এখানকার রেস্তোরাঁয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। এখানে থাকতে খরচ হবে প্রায় ২৩,০০০ টাকার মতো (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৩. **দ্য বুল, চার্লবারি:** পুরনো দিনের স্থাপত্য আর উষ্ণ পরিবেশের জন্য পরিচিত এই পাব-কাম-হোটেলটি।
এখানকার প্রতিটি ঘর আরামদায়ক করে ডিজাইন করা হয়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত। এখানে রাত্রিযাপনের খরচ প্রায় ২১,০০০ টাকা (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৪. **থাইম:** প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই হোটেলটি আদর্শ।
এখানকার স্পা-তে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। সবুজ আর প্রকৃতির মাঝে, এটি যেন এক শান্তির আশ্রয়স্থল। এখানে থাকতে খরচ হয় প্রায় ৫৪,০০০ টাকার বেশি (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৫. **কাউলি ম্যানর এক্সপেরিমেন্টাল:** আধুনিক ডিজাইন ও শিল্পের ছোঁয়ায় সজ্জিত এই হোটেলে রয়েছে অত্যাশ্চর্য সব সুযোগ-সুবিধা।
এখানে একটি আধুনিক স্পা এবং লাইভ ডিজে’র সাথে ককটেল উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে থাকতে খরচ হয় প্রায় ৪১,০০০ টাকার মতো (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৬. **দ্য প্লাও ইন:** গ্রামের পরিবেশে, এই ১৭ শতকের পুরনো ইন-এ স্থানীয় মানুষের আনাগোনা দেখা যায়।
এখানকার আটটি সাধারণ ঘর উইলিয়াম মরিসের নকশা করা প্রিন্ট দিয়ে সজ্জিত। এখানে থাকার খরচ প্রায় ১৩,০০০ টাকার মতো (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৭. **আর্টিস্ট রেসিডেন্স:** আধুনিক শিল্পকলার সঙ্গে প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে তৈরি এই হোটেলে রয়েছে আরামদায়ক সব ব্যবস্থা।
এখানকার রেস্তোরাঁয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। এখানে থাকতে খরচ হয় প্রায় ২১,০০০ টাকা (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৮. **দ্য কিংহাম প্লাও:** পুরনো দিনের আতিথেয়তার স্বাদ পেতে এই হোটেলে যেতে পারেন।
এখানে স্থানীয় খাবার পরিবেশন করা হয় এবং আরামদায়ক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। এখানে থাকতে খরচ হবে প্রায় ২৬,০০০ টাকার মতো (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
৯. **ফক্সহিল ম্যানর:** যারা বিলাসবহুল জীবন পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই হোটেলটি অসাধারণ।
এখানে অতিথিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়। এখানে থাকতে খরচ হবে প্রায় ৯৮,০০০ টাকার বেশি (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
১০. **ডাবল রেড ডিউক:** এই হোটেলে পুরাতন ধাঁচের আসবাবপত্র এবং আরামদায়ক পরিবেশ বিদ্যমান।
এখানকার রেস্তোরাঁয় দারুণ সব খাবার পাওয়া যায়। এখানে থাকতে খরচ হয় প্রায় ২৭,০০০ টাকার মতো (বিনিময় হার অনুযায়ী)।
কটসওল্ডসের এই হোটেলগুলো শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং প্রতিটি ভ্রমণের স্মৃতিকে আরও রঙিন করে তোলে।
এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং আতিথেয়তা ভ্রমণকারীদের মন জয় করে নেয়।
যারা একটু অন্যরকম ভ্রমণের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য কটসওল্ডস হতে পারে একটি আদর্শ গন্তব্য।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক