জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর নতুন সিজনে (তৃতীয় সিজন) একটি বিতর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এইচবিও-এর এই ব্যঙ্গাত্মক নাটকে সম্প্রতি দুই ভাইয়ের মধ্যেকার একটি অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা দর্শক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সিরিজটির গল্প অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে আসা ধনী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই সিজনের কাহিনি সাজানো হয়েছে। গল্পের মূল আকর্ষণ ছিলেন সাটন র্যাটলিফ ও লকলান র্যাটলিফ নামের দুই ভাই। তাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে প্যাট্রিক শোয়ার্জেনেগার এবং স্যাম নিভোলা।
গল্পের এক পর্যায়ে, তাদের মধ্যেকার সম্পর্কটি এমন এক দিকে মোড় নেয় যা দর্শকদের জন্য বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। গল্পের প্রেক্ষাপটে, মাদক এবং উদ্দাম রাতের শেষে তাদের মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এমন একটি বিষয়কে নির্মাতারা তাদের সিরিজে অন্তর্ভুক্ত করলেন? সমালোচকদের মতে, সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের ভেতরের জটিলতা এবং নৈতিক অবক্ষয় ফুটিয়ে তুলতেই সম্ভবত নির্মাতারা এই ধরনের সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা প্যাট্রিক শোয়ার্জেনেগারও। তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে বসে এই দৃশ্যগুলো দেখা তার জন্য ‘অস্বস্তিকর’ ছিল।
নির্মাতারা অবশ্য জানিয়েছেন, গল্পের ধারাবাহিকতায় এই ধরনের দৃশ্যগুলোর একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এর একটি সুসংহত পরিণতি দেখা যাবে।
‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর আগেও বিভিন্ন সিনেমায় এ ধরনের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যেমন, বিবিসি-র ‘আই, ক্লডিয়াস’ (I, Claudius) থেকে শুরু করে ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও এই ধরনের সম্পর্ক নিয়ে কাজ হয়েছে।
তবে, এই ধরনের বিষয়বস্তু সবসময়ই বিতর্কিত এবং সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের গল্প বলার পেছনে নির্মাতাদের উদ্দেশ্য থাকে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা, যা হয়তো প্রচলিত ধারণার সঙ্গে মেলে না।
বিতর্ক তৈরি হলেও, এই ধরনের বিষয়গুলো দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয় এবং অনেক সময় সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান