শিরোনাম: “পৃথিবীর কুৎসিততম প্রাণী” থেকে “বর্ষসেরা মাছ”: ব্লবফিশের সমুদ্র-গভীর রূপকথা।
২০১৩ সালে, “বিশ্বের কুৎসিততম প্রাণী” হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্লবফিশ (Blobfish), সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের “বর্ষসেরা মাছ” খেতাব জয় করেছে। শুনতে অবাক লাগলেও, গভীর সমুদ্রের এই প্রাণীটির জীবনযাত্রা এবং বাইরের জগতে তার ধারণাগত রূপের মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।
আসুন, ব্লবফিশের এই রূপকথার গল্পটি বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ব্লবফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের বাসিন্দা। এরা সাধারণত সমুদ্রের ৩০০ থেকে ৮০০ মিটার গভীরে, যেখানে সূর্যের আলো প্রায় পৌঁছায় না, সেখানে বাস করে।
মানুষের চোখে ব্লবফিশের যে ছবিটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, সেটি আসলে তাদের আসল রূপ নয়। এই ছবিটি তোলা হয়েছিল মৃত ব্লবফিশের, যা সমুদ্রপৃষ্ঠে তোলার পর তার শরীরের গঠন পরিবর্তন হয়ে যায়।
পানির চাপ কমে যাওয়ার কারণে এদের শরীর ‘গলতে’ শুরু করে এবং অদ্ভুত চেহারার সৃষ্টি হয়।
আসলে, পানির গভীরে ব্লবফিশ দেখতে অনেকটা “ব্যাঙাচির” মতো। এদের শরীর সামনের দিকে বেশ বড় এবং পেছনের দিকে ক্রমশ সরু হতে থাকে।
মিনেসোটা রাজ্যের সেন্ট ক্লাউড স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যাথিউ ডেভিস (Matthew Davis), যিনি মাছের বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন, জানিয়েছেন, “গভীর সমুদ্রে বসবাসের জন্য ব্লবফিশের শরীরে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।”
উদাহরণস্বরূপ, এদের শরীরে আঁশ থাকে না এবং এদের হাড়গুলোও খুব নরম হয়।
ব্লবফিশের শরীরে গ্যাস ব্লাডার (Gas Bladder) বা বায়ুথলিও থাকে না, যা অন্যান্য মাছের শরীরে থাকে।
এই বায়ুথলি মাছকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু ব্লবফিশের ক্ষেত্রে, এদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকে, যা তাদের পানির নিচে ভেসে থাকতে সহায়তা করে।
এছাড়া, ব্লবফিশের দুর্বল হাড় এবং আঁশবিহীন ত্বক তাদের গভীর সমুদ্রের পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অফ ওশানোগ্রাফির মেরিন ভার্টিব্রেট কালেকশন ম্যানেজার বেন ফ্র্যাবল (Ben Frable) এর মতে, ব্লবফিশ শিকারের জন্য ওঁৎ পেতে থাকে।
তারা তাদের মুখ দ্রুত খুলে, শিকারকে চুষে নেয়। এরা ছোট মাছ এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে।
ব্লবফিশ, গভীর সমুদ্রের এক বিস্ময়কর প্রাণী। এদের জীবনযাত্রা এবং বাইরের জগতে তাদের ধারণাগত রূপের ভিন্নতা আমাদের প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং পরিবেশের সঙ্গে প্রাণীদের অভিযোজনের এক দারুণ উদাহরণ।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক