যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলগুলোতে দুধ সরবরাহের বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কম ফ্যাটযুক্ত দুধ দেওয়ার নিয়ম চালু ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত (whole milk) দুধ পুনরায় স্কুলগুলোতে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারক এবং খাদ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কম ফ্যাটযুক্ত দুধের বদলে পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ শিশুদের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।
এই বিষয়টি কিভাবে সেখানকার জনসাধারণের স্বাস্থ্যনীতিকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে প্রায় তিন কোটি শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুলগুলোতে খাবার গ্রহণ করে।
কয়েক বছর আগে, শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে স্কুলগুলোতে কম ফ্যাটযুক্ত দুধ সরবরাহ করার নিয়ম চালু হয়। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরি কমানো।
কিন্তু বর্তমানে, অনেক পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, আইনপ্রণেতা এবং দুগ্ধ উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মনে করছেন, কম ফ্যাটযুক্ত দুধের পরিবর্তে পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ শিশুদের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।
তাদের যুক্তি হলো, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান যা শিশুদের শরীর গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া, অনেক শিশু কম ফ্যাটযুক্ত দুধ খেতে পছন্দ করে না, ফলে তারা দুধ পানের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ইউএসডিএ (USDA) এবং স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগ (HHS) বর্তমানে স্কুলগুলোতে দুধ সরবরাহের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
তাদের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামীতে হয়তো শিশুদের খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। এই বিতর্কের মূল কারণ হলো, দুধের ফ্যাট শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত।
কেউ কেউ মনে করেন, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ শিশুদের ওজন বাড়াতে পারে, আবার কারো কারো মতে, এটি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্ক শুধু একটি দেশের বিষয় নয়। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়ে নতুন নতুন গবেষণা ও আলোচনা চলছে।
আমাদের দেশেও স্কুলগুলোতে শিশুদের জন্য মিড-ডে মিল (mid-day meal) বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্ক থেকে আমরা শিশুদের খাদ্য এবং পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলগুলোতে দুধ সরবরাহের বিষয়টি এখনো একটি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই বিতর্কের ফলস্বরূপ শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উপর ইতিবাচক প্রভাব আশা করা যায়।
তথ্য সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস