কর্মক্ষেত্রে পোশাক-পরিচ্ছদের ধরনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সময়কার আকর্ষণীয় পোশাকের বদলে এখন তারা ঝুঁকছে সাদাসিধে, আটপৌরে পোশাকে।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘অফিস সাইরেন’ নামে পরিচিত একটি ধারা, যেখানে আবেদনময়ী পোশাকের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থাপন করা হতো, সেই প্রবণতা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর বদলে এখনকার তরুণ প্রজন্ম কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজেদের মানানসই করে তুলতে আরও রক্ষণশীল এবং ফর্মাল পোশাকের দিকে ঝুঁকছে।
সম্প্রতি, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা এবং ছাঁটাইয়ের আশঙ্কার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। ফলে, তারা এখন আর ফ্যাশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাইছে না।
বরং, তারা এমন পোশাক পরতে চাইছে যা তাদের কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তি বিষয়ক দিকপাল স্টিভ জবসের পোশাকের অনুকরণ এখন বেশ জনপ্রিয়।
অনেকেই মনে করেন, কালো কলারওয়ালা টি-শার্ট, জিন্স এবং স্নিকার্স-এর মতো সাধারণ পোশাক কর্মক্ষেত্রে অন্যদের কাছে তাদের রুচি এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে টিকটকে, তরুণীরা তাদের পছন্দের পোশাক নিয়ে বিভিন্ন টিপস শেয়ার করছেন। কেউ বলছেন, সাদা রঙের ঢিলেঢালা টপস এবং ব্যাগি ট্রাউজার্স-এর মতো সাধারণ পোশাক কিভাবে অফিসের জন্য উপযুক্ত।
আবার কেউ বলছেন, কিভাবে একটি নির্দিষ্ট ধরনের পোশাকে অফিসের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।
ফ্যাশন বিষয়ক লেখক ফ্রেয়া ড্রোহান-এর মতে, পোশাকের এই পরিবর্তনে আত্মপ্রকাশের চেয়ে নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা আকর্ষণীয় ডিজাইন এখন যেন অতীত।
সম্ভবত, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে, তরুণ প্রজন্ম নিজেদের সাজসজ্জার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশি ব্যস্ত।
তবে, কর্মক্ষেত্রে সাদাসিধে পোশাক পরার এই প্রবণতা সবসময় ছিল না। একসময় ‘অফিস সাইরেন’ স্টাইল বেশ জনপ্রিয় ছিল।
এই ধারায় অফিসের পরিবেশে আবেদনময়ী এবং সাহসী পোশাক পরার চল ছিল। কিন্তু, বর্তমানে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের পোশাকের চাহিদা কমেছে। এমনকি, অনেকে মনে করেন, এই ধরনের পোশাক কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের অভাব তৈরি করে।
অন্যদিকে, একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনেকেই হয়তো তাদের কর্মঘণ্টার বাইরে, রাতের বেলা বা বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘অফিস সাইরেন’ স্টাইলের পোশাক পরতে পছন্দ করেন।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর কারণ হল, তারা হয়তো এই ধরনের পোশাকের মাধ্যমে নিজেদের অন্যরকমভাবে উপস্থাপন করতে চান, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
পোশাকের এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, ফ্যাশন শুধু একটি বাহ্যিক বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
তরুণ প্রজন্মের পোশাকের পছন্দ তাদের মানসিকতা, ভবিষ্যৎ চিন্তা এবং বর্তমানের প্রতিচ্ছবি বহন করে।
তথ্য সূত্র: The Guardian