গাজায় বড় এলাকা দখলের ঘোষণা ইসরায়েলের, বাড়ছে সংঘাত
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গাজার বিশাল এলাকা ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর অংশ হিসেবে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে সৈন্যদের মোতায়েন করা হবে। একইসাথে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের এই ঘোষণার পরেই গাজার দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে খান ইউনিস ও রাফায়, বিমান হামলা তীব্র হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার সকাল পর্যন্ত হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজনও রয়েছেন। এছাড়া, গাজা শহরেও দুটি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং রাফা অঞ্চলের দিকে ইসরায়েলি সৈন্য সমাবেশ বেড়েছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। সম্প্রতি, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ১৪০,০০০ এর বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজার প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এরই মধ্যে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেখানকার মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। গাজায় লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ায় ইসরায়েলে অবরুদ্ধ থাকা জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫০ জনকে বন্দী করা হয়। এরপরই গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৫০,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান