মহাকাশ অভিযানের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে, পারমাণবিক শক্তিচালিত রকেটের ধারণা নিয়ে কাজ করছে ব্রিটিশ একটি সংস্থা।
‘প্লাজার ফিউশন’ নামের এই স্টার্টআপ তৈরি করছে ‘সানবার্ড’ নামের একটি বিশেষ রকেট, যা নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে।
এর ফলে, মঙ্গলে যেতে এখনকার চেয়ে অর্ধেক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তি আসলে কী?
সহজ ভাষায় বললে, এটি হলো সূর্যের অভ্যন্তরে ঘটে চলা একটি প্রক্রিয়া।
এখানে, হাইড্রোজেন পরমাণু একত্রিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
এই ফিউশন প্রক্রিয়া বর্তমানে ব্যবহৃত পারমাণবিক বিভাজন (নিউক্লিয়ার ফিশন)-এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ফিশনে ভারী পরমাণুকে ভেঙে শক্তি তৈরি করা হয়, যেখানে ফিউশনে হালকা পরমাণু একত্রিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
প্লাজার ফিউশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড ডিনান বলছেন, “পৃথিবীতে ফিউশন ঘটানো কঠিন, কারণ এখানে একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে।
মহাকাশ ফিউশনের জন্য অনেক বেশি উপযুক্ত জায়গা, কারণ সেখানে এই প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে।”
‘সানবার্ড’ রকেটটি ডিজাইন করা হয়েছে বিশেষ উপায়ে।
এটি মহাকাশে অন্যান্য নভোযানের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাবে।
এই রকেটের মূল চালিকাশক্তি হবে নিউক্লিয়ার ফিউশন, যা অত্যন্ত উচ্চ গতিতে মহাকাশযানকে গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর মাধ্যমে ঘন্টায় প্রায় ৮ লক্ষ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি পাওয়া যেতে পারে।
বর্তমানে, ‘সানবার্ড’ রকেটের নির্মাণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, ২০২৭ সাল নাগাদ এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
শুরুতে, এই রকেট স্যাটেলাইটগুলিকে কক্ষপথে স্থাপন করতে ব্যবহৃত হবে।
তবে, এর আসল সম্ভাবনা দেখা যাবে আন্তঃগ্রহ অভিযানে।
উদাহরণস্বরূপ, এই রকেট ব্যবহার করে ৬ মাসেরও কম সময়ে ২,০০০ কিলোগ্রাম ওজনের মালপত্র নিয়ে মঙ্গলে যাওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়াও, বৃহস্পতি বা শনির মতো গ্রহে অভিযান চালানোও সহজ হবে।
অবশ্যই, এই প্রযুক্তি এখনও অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা এবং চাপের প্রয়োজন, যা তৈরি করা বেশ কঠিন।
তাছাড়াও, এই প্রযুক্তিকে হালকা ও বহনযোগ্য করে তোলাটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে, এই ধরনের রকেট তৈরি হলে তা মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
শুধু মানুষ নয়, মহাকাশে পাঠানো বিভিন্ন অনুসন্ধানী যানও এর সুবিধা পাবে।
এর ফলে, সৌরজগতের আরও দূরের গ্রহ ও উপগ্রহগুলিতে অভিযান চালানো সহজ হবে, যা আমাদের অনুসন্ধিৎসু মানবজাতির জন্য এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিশেষ করে, চাঁদে হিলিয়াম-৩-এর মতো মূল্যবান সম্পদের সন্ধান এবং তা ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়বে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন