মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সম্প্রতি একটি নতুন গিজারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা পর্যটকদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণ হতে চলেছে। ১৮৭২ সালে বিশ্বের প্রথম জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই পার্কটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।
ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে এখানে প্রায়ই নতুন নতুন বিষয় নজরে আসে, এবং তারই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হল এই নতুন গিজারটি।
নতুন এই বাষ্প স্তম্ভটি গত সেপ্টেম্বর মাসে আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি ম্যামথ হট স্প্রিংস এলাকার কাছে, নিম্ফ লেকের সন্নিকটে অবস্থিত।
নোরিস গিজার বেসিন থেকে প্রায় এক মাইল উত্তরে, একটি লাভা প্রবাহ এবং একটি জলাভূমির মাঝে, রাস্তার পাশে এর অবস্থান। ম্যামথ হট স্প্রিংস এবং নরিস জংশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় এটি সহজেই চোখে পড়ে।
পর্যটকদের জন্য এখানে ইতিমধ্যে একটি ভিউয়িং পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে বাষ্পের কলামটি ভালোভাবে দেখা যায়। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে যখন ইয়েলোস্টোনের রাস্তাগুলো পুনরায় খোলা হবে, তখন থেকে সম্ভবত এই গিজারটি দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (U.S. Geological Survey)-এর তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েলোস্টোন ভলকানো অবজারভেটরি জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা ২০২১ সালের গ্রীষ্মের শেষের দিকে একটি বনভূমি অঞ্চলের পাদদেশ থেকে বাষ্পের উদ্গীরণ লক্ষ্য করেন।
পর্যবেক্ষণে জানা যায়, এটি একটি নতুন বৈশিষ্ট্য এবং এর বাষ্পের তাপমাত্রা ১৭১ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত।
গরমের সময়ে এই বাষ্প স্তম্ভটি বেশ সক্রিয় ছিল, তবে শীতকালে এর সক্রিয়তা কিছুটা কমে যায়। যদিও এটি এখনো সক্রিয় রয়েছে, তবে এর জলীয় অংশের কারণে বাষ্প নির্গমনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
আগামী গ্রীষ্মে এটি আবার আগের মতো সক্রিয় হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে নতুন এই বাষ্প স্তম্ভটি ছাড়াও ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে ১০,০০০-এর বেশি জলীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এখানে ৫০০-এর বেশি গিজার রয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি।
এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত গিজার ‘ওল্ড ফেইথফুল’, যা গড়ে প্রতি ৯২ মিনিট পর পর অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। এই পার্কটি সারা বিশ্ব থেকে আসা পর্যটকদের জন্য একটি অন্যতম আকর্ষণ।
তথ্য সূত্র: ট্রাভেল এন্ড লেজার