একটি পুরনো জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল, যা ২০২৩-এ এসে আবার নতুন করে আলোচনায়, সেই গল্প নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।
‘গ্লি’ (Glee) – ২০০৯ সালে প্রথমবার টেলিভিশনের পর্দায় আত্মপ্রকাশ করে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আমেরিকান হাই স্কুলের একদল ‘মিসফিট’-এর সঙ্গীত এবং নাচের প্রতি ভালোবাসাই ছিল এই সিরিয়ালের মূল বিষয়। তাদের এই সঙ্গীত এবং নাচের প্রতি ভালোবাসার গল্প দর্শকদের এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে এটি দ্রুত একটি বিশাল ফ্যানবেস তৈরি করে ফেলেছিল।
কিন্তু ২০১৫ সালে যখন এই সিরিয়ালটি শেষ হয়, ততদিনে এর আকর্ষণ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সমালোচকরাও এর বিষয়বস্তু এবং গল্পের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, কয়েক বছর পরেই, বিশেষ করে ২০২৩ সালে এসে, ‘গ্লি’ আবার ফিরে এসেছে, এবং এবার এসেছে অন্য রূপে।
বর্তমানে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে, ‘গ্লি’-এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই প্রজন্মের দর্শক, যারা ডিজনি+ (Disney+) এবং হুলু (Hulu)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এই সিরিয়ালটি দেখছেন, অথবা অ্যামাজন (Amazon) থেকে কিনছেন, তাদের মধ্যে এর উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো।
টিকটকে (TikTok)-এ এই সিরিয়ালের বিভিন্ন আকর্ষণীয় দৃশ্য নিয়মিতভাবে আপলোড হচ্ছে, যা নস্টালজিয়া (nostalgia) তৈরি করছে। এমনকি, ‘গ্লি’-এর গানগুলির সঙ্গে নেচে অনেকে তাদের ভিডিও আপলোড করছেন।
ইউটিউবে (YouTube) ‘গ্লি’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ভিডিও’র ভিউয়ার সংখ্যাও বাড়ছে।
এই সিরিয়ালের বিষয়বস্তু নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এই ধরনের বিষয় তৈরি করা হয়েছিল।
কারণ, অনেক ক্ষেত্রে এর বিষয়বস্তু বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। উদাহরণস্বরূপ, স্কুলের শুটিং নিয়ে তৈরি করা একটি পর্ব বা কুইয়ার (queer) পরিচিতি নিয়ে করা কিছু মন্তব্য সমালোচিত হয়েছে।
তবে, ‘গ্লি’-এর এই বিতর্কিত দিকগুলোই সম্ভবত এর আকর্ষণ ধরে রেখেছে। সিরিয়ালটিতে ২০০৯ সালের দশকের নস্টালজিয়া (nostalgia) রয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে খুব প্রিয়।
এছাড়াও, এর কিছু বিষয় দর্শকদের হাসির খোরাক জোগায়।
আসল ঘটনা হল, ২০০৯ সালে যখন ‘গ্লি’ প্রথম এসেছিল, তখন এটি ছিল একটি নতুন ধরনের সিরিয়াল।
এর নির্মাতা, রায়ান মারফি (Ryan Murphy), সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন- এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) সমস্যা, ধর্ম, এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন।
যদিও বিষয়গুলো ছিল গুরুতর, কিন্তু সেগুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে, ‘গ্লি’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু দুঃখজনক ঘটনাও।
এই সিরিয়ালের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা, কোরি মন্টিথ (Cory Monteith), মার্ক স্যালিং (Mark Salling) এবং নায়া রিভেরা (Naya Rivera)-এর মৃত্যু হয়।
এছাড়াও, কলাকুশলীদের মধ্যেও কয়েকজন মারা যান।
‘গ্লি’ নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে, তবে এর ইতিবাচক দিকগুলোও অস্বীকার করা যায় না।
এই সিরিয়ালটি সেই সময়ে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে, বিশেষ করে তরুণদের, তাদের নিজেদের সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান