আন্তর্জাতিক স্তরে লেখকদের মধ্যে পরিচিত একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ‘ন্যাশনাল নভেল রাইটিং মন্থ’ (NaNoWriMo) বা নভেম্বরে উপন্যাস লেখার চ্যালেঞ্জ, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। গত দুই দশক ধরে, এই প্ল্যাটফর্মটি নভেম্বরের মাসজুড়ে লেখকদের একটি উপন্যাস লেখার জন্য উৎসাহিত করত।
জানা গেছে, আর্থিক সমস্যা এবং কিছু বিতর্কের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি বন্ধ হওয়ার পথে।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্ম, লেখকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। মূলত, লেখকদের একটি মাসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শব্দ (সাধারণত, ৫০,০০০ শব্দ) সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
এটি লেখকদের মধ্যে লেখালেখির অভ্যাস তৈরি করতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার অনুপ্রেরণা যোগাতো। সময়ের সাথে সাথে, এটি একটি বিশাল অনলাইন কমিউনিটিতে পরিণত হয় এবং ২০১৬ সাল থেকে একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে।
২০২১ সালে, অনেকেই এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নতুন লেখক, আবার অনেকে ছিলেন অভিজ্ঞ। এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে লেখকরা তাঁদের ভেতরের লেখক সত্তাকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারতেন।
তবে, এই ধরনের চ্যালেঞ্জের কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। দ্রুততার সাথে লেখার কারণে অনেক সময় লেখার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। অনেক ক্ষেত্রে, লেখার সম্পাদনা এবং পরিমার্জনের সুযোগ কম থাকায়, গল্পের দুর্বলতাগুলো থেকে যেত।
জানা গেছে, প্ল্যাটফর্মটি সম্প্রতি আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। এছাড়াও, কিছু বিতর্ক এর কার্যকারিতা এবং ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি তাদের অবস্থান এবং একজন মডারেটরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক তদন্ত না করার কারণেও অনেকে এর সমালোচনা করেছেন।
তবে, NaNoWriMo-এর সমাপ্তি মানেই এই নয় যে, নভেম্বরে উপন্যাস লেখার ধারণাটি শেষ হয়ে যাবে। লেখকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং উদ্যোগ আসতেই পারে।
বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বে, লেখালেখির জন্য অনেক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। লেখকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা এবং সুযোগ পান তাঁদের কাজ সবার সামনে তুলে ধরার জন্য।
আসলে, NaNoWriMo-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো লেখকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। লেখকদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে এবং নিজেদের লেখার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যতে, হয়তো এই ধরনের আরও অনেক উদ্যোগ দেখা যাবে, যা লেখকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করবে।
তথ্য সূত্র: The Guardian