মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (Social Security Administration – SSA) প্রযুক্তি বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের জেরে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সংস্থাটি তাদের প্রযুক্তি বিভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যখন তাদের পুরোনো কম্পিউটার সিস্টেমগুলি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে এবং ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত অবসরপ্রাপ্ত, অক্ষম এবং অন্যান্য সুবিধাভোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এটি অনেকটা বাংলাদেশের সরকারি পেনশন স্কিম বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মতো।
এই সংস্থার প্রযুক্তি বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে, দেশটির কয়েক কোটি মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি ‘অফিস অব দ্য চিফ ইনফরমেশন অফিসার’ (Office of the Chief Information Officer – OCIO)-এর অধীনে পরিচালিত হবে।
বর্তমানে এই বিভাগে প্রায় ৩,২০০ জন কর্মী কর্মরত আছেন। তবে, কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ কর্মীরা চাকরি হারাতে পারেন, যা পরিষেবার মানকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কম্পিউটার সিস্টেম প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হয়।
বর্তমানে ব্যবহৃত ‘COBOL’ নামক একটি পুরনো প্রোগ্রামিং ভাষা, যা এখন খুব কম লোকই জানেন, এই সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও, প্রায় ৩,৬০০ টি আন্তঃসংযুক্ত অ্যাপ্লিকেশন (interconnected applications) এই সংস্থাটি পরিচালনা করে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
তাদের মতে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেডেশন কঠিন হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত সুবিধাভোগীদের জন্য পরিষেবা পেতে সমস্যা তৈরি করবে।
উদাহরণস্বরূপ, ‘আমার সামাজিক নিরাপত্তা’ (my Social Security) ওয়েবসাইটটি প্রায়ই কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে সুবিধাভোগীদের অর্থ পরিশোধে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বর্তমানে, ৭ কোটির বেশি মানুষ এই সংস্থার সুবিধাভোগী।
এই পরিস্থিতিতে, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তারা কর্মীদের অধিকার খর্ব করার জন্য সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
তারা বলছেন, এর ফলে অভিজ্ঞ কর্মীরা চাকরি হারাতে পারেন এবং যারা থাকবেন, তাদের ওপর কাজের চাপ বাড়বে, যা পরিষেবার মানকে আরও দুর্বল করে দেবে।
বর্তমানে, এই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন লেল্যান্ড ডুডেক (Leland Dudek)। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের তথ্য সুরক্ষায় তারা সচেতন আছেন এবং তাদের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন।
তথ্য সূত্র: CNN