বৃদ্ধ বয়সেও মঞ্চ কাঁপানো: সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা
গান ভালোবাসেন এমন মানুষের কাছে সঙ্গীতের কোনো বয়স নেই। সুরের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে তারা সবসময় নতুন কিছু শুনতে চান। বিশ্বজুড়ে এমন অনেক শিল্পী আছেন, যারা জীবনের সত্তর কিংবা আশি বছর বয়সেও নিয়মিত কনসার্ট করে চলেছেন, গান গেয়ে যাচ্ছেন আগের মতোই প্রাণবন্তভাবে। তাদের এই সঙ্গীত জীবন যেন অন্যদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
এই প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে হয়তো তাদের অনেকের নাম অপরিচিত, কিন্তু একসময় গানের জগতে তারা ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— রিক ওয়াকম্যান, যিনি ৭৬ বছর বয়সেও সঙ্গীত পরিবেশন করেন; আশি বছর বয়সী এলকি ব্রুকস; ৮১ বছরের মিক জ্যাগার; ৮৩ বছরের বব ডিলান; ৮২ বছরের পল ম্যাককার্টনি; ৭৫ বছরের ব্রুস স্প্রিংস্টিন; ৮৫ বছরের ম্যাভিস স্টেপলস এবং ৮৯ বছর বয়সী পেগি সিগার।
তাদের মঞ্চে ফেরার কারণ কি? তাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রোতাদের কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা এখনো গান করেন। বনি রাইট নামের ৭৫ বছর বয়সী একজন শিল্পী ৫৪ বছর ধরে গান করছেন। তিনি বলেন, মঞ্চে গান করা তার কাছে সবচেয়ে আনন্দের একটি বিষয়। এই শিল্পীরা তাদের প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তাদের গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
তবে এত বছর ধরে সঙ্গীতচর্চা করাটা সহজ নয়। তাদের অনেককেই শারীরিক নানা সমস্যার সঙ্গে লড়তে হয়। কারো হয়তো বাতের ব্যথা, কারো কণ্ঠের সমস্যা লেগেই থাকে। তারপরও তারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের চেষ্টা করেন।
একসময় কনসার্টে অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদক সেবনের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এলকি ব্রুকস এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একসময় নাকি কোকেন নেওয়াটা তাদের কাছে কফি খাওয়ার মতোই সাধারণ ছিল। কিন্তু পরে তিনি এই অভ্যাস ত্যাগ করেন। বনি রাইটও এক দুর্ঘটনার পর মাদক ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকেন।
তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় এবং সুস্থ জীবনযাত্রা তাদের দীর্ঘকাল ধরে সঙ্গীত জগতে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের জীবনযাত্রা বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী ও সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান