একজন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব লরেন কেলি: ব্রিটেনের ছোট পর্দার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
লরেন কেলি, ব্রিটেনের টেলিভিশন জগতের এক সুপরিচিত মুখ। বিগত ৪০ বছর ধরে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু টিভি পর্দায় তাঁর উপস্থিতিই নয়, লেখক হিসেবেও তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর উপন্যাস ‘দ্য আইল্যান্ড সুইমার’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
লরেন কেলির জন্ম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন টিভি প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন দোকানের কর্মচারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন উজ্জ্বল এবং পড়াশোনায় ভালো। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা লরেন পরবর্তীতে টেলিভিশন জগতে পা রাখেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি বিবিসি স্কটল্যান্ডে গবেষক হিসেবে কাজ করেন এবং ১৯৮৪ সালে টিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি ‘গড মর্নিং ব্রিটেন’ সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘লরেন’ নামক একটি জনপ্রিয় দৈনিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন।
টেলিভিশন জগতে কাজ করার পাশাপাশি লরেন কেলি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ আলোচনায় থাকেন। তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যার জননী। সম্প্রতি তিনি নাতনির দিদিমা হয়েছেন। তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং নাতির প্রতি আবেগ প্রায়ই তাঁর সাক্ষাৎকারে প্রকাশ পায়। পরিবার এবং কাজ – এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে সফল হওয়া যায়, লরেন কেলি যেন তারই উদাহরণ।
তাঁর কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বিশেষ করে, ২০১৯ সালে তিনি ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। যদিও তিনি সেই মামলায় জয়লাভ করেন, তবে এর ফলে তাঁর ভাবমূর্তিতে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং, আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করে গেছেন।
লরেন কেলি শুধু একজন উপস্থাপিকা নন, তিনি সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাঁর মতামত প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি নারী অধিকার, সামাজিক সমস্যা এবং রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাঁর স্পষ্টবাদীতা এবং নির্ভীকতা দর্শকদের কাছে তাঁকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে।
লরেন কেলির জীবন এবং কর্ম বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তিনি প্রমাণ করেছেন, কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে নারীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান