কাযুও ইশিগুরোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘নেভার লেট মি গো’ (Never Let Me Go) –প্রকাশের বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। জনপ্রিয় এই উপন্যাসটি নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যেখানে উঠে এসেছে বইটির গভীরতা, গল্পের প্রেক্ষাপট এবং এর প্রাসঙ্গিকতা।
বইটির বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সাহিত্য সমালোচক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের অধ্যাপক অ্যান এনরাইট। তিনি জানান, “আমার ছাত্র-ছাত্রীরা ‘নেভার লেট মি গো’ উপন্যাসটি খুব পছন্দ করে। প্রতি বছর তারা অন্য কোনো প্রস্তাবিত বইয়ের চেয়ে এই বইটি নিয়ে আলোচনা করতে বেশি আগ্রহী হয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে বইটির আবেদন অনেক বেশি, কারণ ইশিগুরো এতে তরুণ বয়স, বন্ধুত্ব এবং সারল্যের সুন্দর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।”
উপন্যাসটির চলচ্চিত্র রূপান্তরের পরিচালক মার্ক রোমানেকও বইটি নিয়ে তার অনুভূতির কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি ইশিগুরোর উপন্যাসের একজন বিশাল ভক্ত। যখনই তার কোনো নতুন বই প্রকাশিত হয়, আমি সবার আগে সেটি পড়ি। ‘নেভার লেট মি গো’ পড়ার সময় আমি কয়েকবার কেঁদেছিলাম এবং বইটি নিয়ে অনেক ভেবেছি। দ্বিতীয়বার পড়ার সময়, আমার মনে হচ্ছিল যেন এটি একটি সিনেমা। এরপর আমি সিনেমাটির স্বত্বাধিকারীদের সাথে যোগাযোগ করি এবং সিনেমাটি নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করি।”
এছাড়াও, রয়েল সোসাইটির প্রাক্তন সভাপতি এবং রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভেঙ্কট রামাকৃষ্ণানও বইটি নিয়ে তার মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইশিগুরোর এই উপন্যাসটি আমার ভালো লাগার কারণ হলো, এটি আমার কাজের ক্ষেত্রের (আণবিক জীববিদ্যা) কাছাকাছি। ডলি নামের একটি ভেড়ার (প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী) জন্ম-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তারই ফলস্বরূপ এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল। ইশিগুরোর কল্পনার জগৎ আরও গভীর এবং উদ্বেগময়।”
উপন্যাসটির মঞ্চরূপের পরিচালক ক্রিস্টোফার হেডন-এর মতে, “ইশিগুরোর লেখার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর সরলতা। এই সাধারণ ভাষার গভীরতা ‘নেভার লেট মি গো’কে একটি অসাধারণ উপন্যাসে পরিণত করেছে। মঞ্চে এটি উপস্থাপন করা বেশ কঠিন ছিল, কারণ বইটির জগৎ কল্পনা এবং স্মৃতির মধ্যে বিদ্যমান। মঞ্চে অভিনেতাদের শরীর, রক্ত, পেশি এবং হাড়ের মাধ্যমে গল্পটি বলতে হয়। তবে সুজান হিথকোটের নাট্যরূপ দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল।”
উপন্যাসটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আজও একইভাবে জনপ্রিয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সমালোচকরা বলছেন, মানুষের ভেতরের মানবিক অনুভূতি, প্রযুক্তির প্রভাব এবং নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো এই উপন্যাসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই উপন্যাসটি যেন মানুষের ভেতরের কথাগুলোই তুলে ধরে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান