নেপালের প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ’র কাঠমান্ডু প্রত্যাবর্তনে রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ
কাঠমান্ডু, [তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে]। নেপালের প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ’র কাঠমান্ডুতে প্রত্যাবর্তনে হাজার হাজার সমর্থক রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
রবিবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে) ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রাক্তন রাজার সমর্থনে প্রায় ১০,০০০ জনতা সমবেত হন।
বিক্ষোভকারীরা বর্তমান প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে “রাজা ফিরে এসো, দেশ বাঁচাও” এবং “আমরা রাজতন্ত্র চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে তারা বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
২০০১ সালে রাজা বীরেন্দ্র শাহ’র পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর জ্ঞানেন্দ্র শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন।
২০০৫ সালে তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেন এবং রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে দমন করেন।
তাঁর এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ-আন্দোলন শুরু হলে ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
২০০৮ সালে নেপালের পার্লামেন্ট রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেশটিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে।
তবে, প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
বিগত বছরগুলোতে ১৩টি সরকার গঠিত হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি।
বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার জন্য অর্থনৈতিক সংকট এবং ব্যাপক দুর্নীতিকে দায়ী করে অনেক নেপালী নাগরিক হতাশ।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা চান রাজনৈতিক পরিবর্তন, যা দেশকে আরও খারাপের দিকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ৭২ বছর বয়সী থির বাহাদুর ভাণ্ডারী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপিকে (AP) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা রাজার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি এবং রাজ সিংহাসন পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর পাশে আছি।”
আরেক বিক্ষোভকারী, ৫০ বছর বয়সী কুলরাজ শ্রেষ্ঠা, যিনি ২০০৬ সালে রাজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি এখন রাজতন্ত্রের সমর্থক।
তিনি জানান, “দেশে সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো ব্যাপক দুর্নীতি, আর ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিবিদরা দেশের জন্য কিছুই করছেন না।
আমি রাজতন্ত্রের অবসানের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম এতে দেশের ভালো হবে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।
দেশ আরও খারাপের দিকে গেছে।”
যদিও রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এখনো পর্যন্ত রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে মুখ খোলেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তাঁর পক্ষে ক্ষমতা ফিরে পাওয়া কঠিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোক রাজ বারাল মনে করেন, রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নেই, কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি অতীতে অস্থিরতার কারণ ছিল।
বর্তমানে, নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
রাজতন্ত্রের সমর্থকরা তাদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
তথ্য সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।