অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুমিরের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার পরিবেশের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। গত ৫০ বছরে এখানকার কুমিরগুলো শিকারের পরিমাণ প্রায় নয়গুণ বাড়িয়েছে, যা সেখানকার নদী এবং জলাভূমিগুলোতে পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ যোগান দিচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
১৯৭১ সালে শিকার নিষিদ্ধ করার পর থেকে নোনা জলের কুমিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেসময় এদের সংখ্যা ছিল ৩,০০০ এর কম, যা বর্তমানে এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যামিশ ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটার জলাভূমিতে কুমিরেরা ২০ কেজির কম শিকার করত। ২০১৯ সালে সেই শিকারের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ কেজি।
গবেষণা অনুযায়ী, কুমিরের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭৯ সালে তাদের খাদ্য তালিকার ৬৫ শতাংশ ছিল জলজ প্রাণী। ২০১৯ সালে সেই চিত্র পাল্টে যায়, যেখানে ৭০ শতাংশ খাবার আসে ভূমি থেকে। বন্য শূকর, গরু এবং এশীয় জলমহিষের মতো প্রাণী এখন তাদের প্রধান খাদ্য।
অধ্যাপক ক্যাম্পবেল জানান, কুমিরেরা শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের তুলনায় অনেক কম খাবার গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি কুমির একই আকারের সিংহের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ খাবার খায়। কিন্তু নর্দার্ন টেরিটোরিতে এদের ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়ায়, এর প্রভাবও ব্যাপক। তিনি আরও বলেন, “কুমিরের খাদ্যাভ্যাস এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিমাণ খুবই বেশি, যা এখানকার বাস্তুসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।” গবেষকদের ধারণা, এখানকার কুমিরেরা প্রতি বছর প্রতি বর্গকিলোমিটার জলাভূমিতে প্রায় ছয়টি বন্য শূকর ভক্ষণ করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে কুমিরের মাধ্যমে এখানকার জলজ পরিবেশে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের নিঃসরণ যথাক্রমে ১৮৬ এবং ৫৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক ক্যাম্পবেল বলেন, “কুমিরেরা স্থলভাগের খাদ্য শৃঙ্খল থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে পানিতে ত্যাগ করে। এর ফলে সেখানকার জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের উৎপাদনশীলতার ওপর বিশাল প্রভাব পড়ছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করে।”
গবেষণাটি ‘প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।