ডমিনিকান রিপাবলিকের পুন্তা কানার সমুদ্র সৈকতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন ছাত্রীর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার সাত দিন পরও ওই ছাত্রীর সন্ধান না মেলায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জানা গেছে, ঘটনার দিন সৈকতে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
২০ বছর বয়সী সুদীক্ষা কোনানকি নামের ওই ছাত্রী ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গের শিক্ষার্থী। গত ৬ মার্চ তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে ডমিনিকান রিপাবলিকের পুন্তা কানায় যান। সেখানকার রিও রিপাবলিকা হোটেলের সমুদ্র সৈকতে তিনি নিখোঁজ হন। ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র, ডমিনিকান রিপাবলিক এবং ভারতের কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে। সুদীক্ষার পরিবার মূলত ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন সুদীক্ষা ও তাঁর পাঁচ বান্ধবী হোটেলের লবিতে মদ্যপান করছিলেন। পরে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তাঁরা দুজন পুরুষের সঙ্গে সৈকতে যান। এরপর ক্যামেরায় দেখা যায়, পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ প্রায় ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে সৈকত ত্যাগ করেন। তবে সুদীক্ষাকে তাঁর সঙ্গে থাকা ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে সেখানে থাকতে দেখা যায়। ওই যুবককে সকাল ৯টার দিকে সৈকত ছাড়তে দেখা গেলেও সুদীক্ষার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুদীক্ষার সরং-স্টাইলের পোশাক সৈকতের একটি চেয়ারে পাওয়া গেছে। তবে সেখানে কোনো সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই যুবক জানিয়েছেন, তিনি পানিতে নেমে অসুস্থ বোধ করেন। এরপর তিনি উঠে এসে সমুদ্র সৈকতে শুয়ে পড়েন। সে সময় সুদীক্ষাকে তিনি সমুদ্রের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, তিনি একাই সেখানে রয়েছেন এবং পরে তিনি সৈকত ত্যাগ করেন। বর্তমানে ওই যুবক তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং পুলিশ তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছে না।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদীক্ষা নিখোঁজ হওয়ার সময় আরও কিছু লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তাঁদের কোনো তথ্য জানা থাকলে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ডমিনিকান রিপাবলিকের নৌবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আগাস্টিন মরিলো রড্রিগেজ সিএনএনকে জানিয়েছেন, যে রাতে সুদীক্ষা নিখোঁজ হন, সেদিন সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ প্রতিকূল ছিল, ঢেউ ছিল অনেক উঁচু।
উল্লেখ্য, সুদীক্ষার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার দুই মাস আগে একই সৈকতে প্রবল স্রোতের কারণে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়। ডমিনিকান রিপাবলিকের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে সুদীক্ষার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছিলেন। তবে বর্তমানে দেশটির জেনারেল প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, তাঁরা সুদীক্ষার অন্তর্ধানের কারণ হিসেবে অন্য সম্ভাবনাগুলোও খতিয়ে দেখছেন। প্রসিকিউটর ইয়েনি বেরেনিস রেইনোসো বলেছেন, “আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।
সুদীক্ষার পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় শেরিফ কর্তৃপক্ষ অন্য সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার জন্য জোর দিয়েছেন। শেরিফ মাইক চাপম্যান বলেছেন, “যেহেতু ঘটনার সময় সৈকতে আরও কিছু লোক ছিল, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের সঙ্গে সুদীক্ষার কোনো সাক্ষাৎ হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা।
সুদীক্ষার বাবা-মা তাঁদের দুই বন্ধুর সঙ্গে পুন্তা কানায় গিয়ে মেয়ের খোঁজে নেমেছেন। মেয়ের জিনিসপত্রের মধ্যে ফোন ও ওয়ালেট বন্ধুদের কাছে ছিল, যা সাধারণত সুদীক্ষা নিজের কাছে রাখতেন। মেয়ের বাবা কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার তদন্তের পরিধি বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, এটি অপহরণ বা মানব পাচারের ঘটনাও হতে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন