বিয়ে পুরুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলে, স্থূলতার সম্ভবনা বাড়ায়, নারীদের ক্ষেত্রে তেমন নয়
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত পুরুষদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা অবিবাহিত পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। তবে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের কারণে ওজন বাড়ার তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পোল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজির গবেষকরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।
গবেষণায়, গড় বয়স ৫০ বছর এমন ২,৪০০ জনের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণে দেখা যায় বিবাহিত পুরুষদের স্থূল হওয়ার সম্ভবনা অবিবাহিত পুরুষদের চেয়ে ৩.২ গুণ বেশি। যদিও নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের সঙ্গে ওজন বাড়ার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, বিবাহিত পুরুষদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের সম্ভবনাও ৬২% বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৯%
গবেষকরা আরও দেখেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ওজন বাড়ার সম্ভবনা থাকে। প্রতি বছর বয় increase এর সাথে পুরুষের অতিরিক্ত ওজনের সম্ভবনা ৩% এবং স্থূলতার সম্ভবনা ৪% বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৪% এবং ৬%。 এছাড়াও, কিছু বিষয় কেবল নারীদের ওজনের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন, যারা হতাশায় ভোগেন তাদের মধ্যে স্থূলতার সম্ভবনা দ্বিগুণ থাকে। স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের অভাবও এই সম্ভবনা বাড়ায়, যা ছোট কমিউনিটিতে বসবাসকারী নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিয়ের পর পুরুষদের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আসে, যা তাদের ওজন বাড়াতে সহায়তা করে। যেমন, খাবারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠানে বেশি খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে, নারীরা সামাজিক চাপ এবং শরীরের ওজনের বিষয়ে বেশি সচেতন থাকেন।
ওজন বাড়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আরও অনেক বিষয় জড়িত। তাই, শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের উপর দোষ না চাপিয়ে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নীতি তৈরি করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করা, শিক্ষা এবং সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করা যেতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অফ বাথের একজন অধ্যাপক, জোয়ানা সিরদার মতে, “এই গবেষণা আমার ২০১৭ সালের গবেষণার ফলাফলকে সমর্থন করে। আমার গবেষণায় দেখা গিয়েছিলো, বিয়ের পর পুরুষদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বাড়ে, এবং বিবাহ বিচ্ছেদের আগে ও পরে তা কমে যায়। এর প্রধান কারণ হলো, অবিবাহিত পুরুষরা সঙ্গী পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর থাকতে বেশি আগ্রহী হন।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরুষদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা সমাধানে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান