মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের কাছে ২০টি অত্যাধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো হবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, চীন এই অঞ্চলে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করছে, যার মোকাবিলা করা হবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই এই চুক্তি অনুমোদন করা হলো।
মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (DSCA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৫.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিএসসিএ-এর মতে, এই বিক্রয় “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে।”
ফিলিপাইন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও অর্থনৈতিক প্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ফিলিপাইন সফর করেন। সেখানে তিনি চীনের “আগ্রাসন” মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সামরিক জোট আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় চীন সতর্ক করে বলেছে, ফিলিপাইনের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের স্বার্থের ক্ষতি করবে না এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে না।
বেইজিং আরও বলেছে, “আঞ্চলিক দেশগুলো ভালো করেই জানে, কারা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে এবং সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইন এই মুহূর্তে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় সত্ত্বেও চীন এই জলসীমার ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সঙ্গে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াবে এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।
এর মাধ্যমে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। ফিলিপাইন বর্তমানে হালকা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।
তাদের বহরে অত্যাধুনিক এফ-১৬ বিমান যুক্ত হলে তা দেশটির বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ক্ষমতা সম্পন্ন। নির্মাতারা দাবি করেন, এই বিমানগুলো ঘণ্টায় ১,৫০০ মাইলের বেশি গতিতে উড়তে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের মধ্যেকার সম্পর্ককে “লৌহ-কঠিন জোট” হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশেষ করে কমিউনিস্ট চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
ট্রাম্প প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে আরও গুরুত্ব দিতে চায়।
এই অঞ্চলে চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী আচরণের কারণে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন