যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের উদ্বেগে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য, বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার মুখে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা তৈরি আছেন এবং কোনো রকম হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
বুধবার পার্লামেন্টে (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট) প্রশ্নোত্তর পর্বে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোখের এক প্রশ্নের জবাবে স্টারমার এ কথা বলেন। তিনি জানান, সব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্য যুদ্ধ কারো জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না। আমরা পরিস্থিতি শান্ত ও বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবিলা করব।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত এমন এক ‘মুক্তি দিবস’-এর ঘোষণা দিতে পারেন, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন শিল্প ও সংস্থাগুলোর সঙ্গেও তারা কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজট ফিলিপসন বিবিসি ব্রেকফাস্টকে জানান, সরকার শুল্ক আরোপের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, “আমরা বুঝি যে, এটি একটি কঠিন সময় হতে চলেছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা সবসময় দেশের স্বার্থ এবং ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে চলব।
এদিকে, লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা এড ডেভি প্রস্তাব করেছিলেন, ইউক্রেন আলোচনার মতো একটি ‘অর্থনৈতিক জোট’ গঠন করা হোক, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে। তবে স্টারমার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রীও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে “অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তার দেশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) জানিয়েছে, তারা এর মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কিছু বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেকার বাণিজ্য সম্পর্ক, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতির জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের উচিত নিজেদের বাণিজ্য কৌশলকে আরও সুসংহত করা, যাতে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।