মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ফ্লেভারযুক্ত ভ্যাপিং পণ্য বাজারজাত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। এই রায়ের ফলে দেশটিতে ফ্লেভারযুক্ত ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং পণ্যের সহজলভ্যতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আদালত, একইসঙ্গে, এই মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য একটি আপিল আদালতে ফেরত পাঠিয়েছে।
আদালতের এই রায়ের মূল কারণ হলো, এফডিএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, “গোলাপি লেমনেড,” “রেইনবো রোড” এবং “জিমি দ্য জুস ম্যান পিচি স্ট্রবেরি”-এর মতো ফ্লেভারগুলো মূলত তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়। স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের ফ্লেভারের কারণে তরুণদের মধ্যে ভ্যাপিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে।
এই বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভ্যাপিং করত। যা একই সময়ে ধূমপান করা শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টি এফডিএ-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে ভ্যাপিং পণ্যের বাজার উন্মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আদালতের এই রায়ের ফলে ভ্যাপিং প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য এফডিএ-এর অনুমোদনের জন্য পুনরায় আবেদন করতে পারবে।
বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটোর নেতৃত্বে আদালত এই রায় দেয়। আদালতের সিদ্ধান্তটি ছিল সর্বসম্মত।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই রায় সরাসরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, তবুও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।
কারণ, ভ্যাপিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য সূত্র: সিএনএন