যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বিশ্বজুড়ে বাজারকে টালমাটাল করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা আসার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো নতুন করে শুল্কের শিকার হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে চীনের ওপর নতুন করে প্রায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
এর আগে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ছিল, সবমিলিয়ে যা এখন ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য এই শুল্কের হার ২০ শতাংশ।
এছাড়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ২৪ ও ২৬ শতাংশ। তবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার আরও বেশি।
কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোকে তাদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে গেলে ৪৪ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে অনেক দেশে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে।
ইতিমধ্যে চীন ও ইইউ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ছোট অর্থনীতির দেশগুলোও এই বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত।
তারা আশঙ্কা করছে, এর ফলে তাদের অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমাতে ওয়াশিংটন ও তার বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই শুল্কনীতি সহজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
এমনকি, আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু শুল্ক বহাল থাকতে পারে। বিনিয়োগ ব্যাংক নাতিক্সিসের একজন অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, তবে কিছু শুল্ক সম্ভবত স্থায়ীভাবে থেকে যাবে।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা বলছে, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জেপি মর্গান ও গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতে, এই বছর ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মন্দা আসার সম্ভবনা রয়েছে।
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভেলকো ফোটাক বলেন, বাজার এখনো মনে করছে, শুল্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ যদি আরও বাড়ে, তাহলে শেয়ার বাজারে আরও বড় ধরনের দরপতন হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিজেদের অর্থনীতির সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রপ্তানি বাজারকে আরও বহুমুখী করা এবং বাণিজ্য সম্পর্ককে সুসংহত করার মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা