মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন মোড় নিতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে, চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলোর ওপর আরোপিত উচ্চ হারে শুল্কের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা সরাসরি বাংলাদেশের বাজারকে প্রভাবিত করবে।
জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এমনকি, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা হলে, চীনের উপর এই শুল্ক আরও বাড়িয়ে ৭৯ শতাংশ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই শুল্কের সরাসরি প্রভাব পড়বে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, জুতা, খেলনা এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে।
উদাহরণস্বরূপ, গত বছর চীন ও ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জুতা আমদানি করেছে। এই শুল্কের কারণে, এসব পণ্যের দাম শুধু আমেরিকাতেই নয়, বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক আরোপের ফলে প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভোক্তাদের উপর পড়বে এবং পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করবে।
বিশেষ করে, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে, তা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলবে। কারণ, চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের উপর বাংলাদেশ অনেকাংশে নির্ভরশীল।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগও তৈরি হতে পারে। মার্কিন বাজারে চীনের পণ্যের দাম বাড়লে, বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের জন্য সেখানে প্রবেশের একটি সুযোগ আসতে পারে।
পোশাক শিল্পের মতো খাতে, যেখানে চীন ও ভিয়েতনামের উৎপাদন খরচ বাড়বে, সেখানে বাংলাদেশের উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে।
তবে, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বাজারে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে, চীন থেকে আসা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের দাম বাড়লে, তা স্থানীয় উৎপাদন খরচকেও প্রভাবিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে, সরকারকে বাণিজ্য নীতিতে নতুন করে মনোযোগ দিতে হবে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, তা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সুতরাং, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই সৃষ্টি হবে।
সরকারের উচিত হবে, এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে একটি উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা, যা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখবে এবং বাণিজ্য প্রসারে সহায়ক হবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন