নিউ ইয়র্ক সিটির একটি বিখ্যাত আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যাপটিস্ট চার্চ, অ্যাবিসিনিয়ান ব্যাপটিস্ট চার্চের প্রধান যাজক (সিনিয়র পাস্তর) হওয়ার দৌড়ে এক নারীর লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক।
ঐ নারী, রেভারেন্ড ইবোনি মার্শাল টারম্যান, যিনি ইয়েল ডিভিনিটি স্কুলের অধ্যাপক এবং চার্চটির সাবেক সহকারী যাজক ছিলেন, তিনি এই মামলাটি করেছিলেন।
ঐতিহ্যপূর্ণ এই চার্চটিতে দীর্ঘকাল ধরে সিনিয়র যাজকের দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যালভিন ও. বাটস তৃতীয়। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন প্রধান যাজক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রেভারেন্ড টারম্যানও সেই দৌড়ে ছিলেন, কিন্তু তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয়নি। এর পরেই তিনি চার্চ এবং নির্বাচন কমিটির বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ এনে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, অ্যাবিসিনিয়ান ব্যাপটিস্ট চার্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রধান যাজকের দায়িত্ব পাননি।
মামলা খারিজ করার কারণ হিসেবে বিচারক ডেল হো ‘মিনিস্টেরিয়াল এক্সেপশন’-এর কথা উল্লেখ করেন। এই আইনি ধারণা অনুযায়ী, ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে তাদের কর্মী নিয়োগ এবং বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষা দেওয়া হয়, বিশেষ করে ধর্মীয় নেতাদের ক্ষেত্রে।
বিচারক আরও বলেন, রেভারেন্ড টারম্যান প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত পাঁচ জন পুরুষের চেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর রেভারেন্ড টারম্যান সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, তিনি আপিল করার কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, অ্যাবিসিনিয়ান চার্চ “ভণ্ডামিতে নিমজ্জিত”।
তিনি আরও বলেন, “মামলাটি মূলত যোগ্যতার ভিত্তিতে খারিজ হয়নি, বরং একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছে – ধর্মীয় ব্যতিক্রমের কারণে, যা ধরে নেয় যে চার্চের বৈষম্য করার অধিকার আছে, যদিও বাইবেলে বলা হয়েছে, ‘খ্রিস্টে নারী বা পুরুষ ভেদাভেদ নেই’।
আমার নৈতিক দাবি এখনও টিকে আছে: আমার বা অন্য কারো প্রতি লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো স্থান ঈশ্বরের ঘরে নেই।
অন্যদিকে, অ্যাবিসিনিয়ান ব্যাপটিস্ট চার্চ আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, “চার্চ এই আইনি বিজয় উদযাপন করে এবং ধর্মীয় নেতৃত্বে লিঙ্গ সমতার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সেই সঙ্গে সকলের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার পক্ষে দীর্ঘদিনের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
প্রধান যাজক পদের জন্য চূড়ান্ত মনোনীত পাঁচ জনের মধ্যে কেভিন আর. জনসনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি এর আগে ২০১৬ সালে ব্রাইট হোপ ব্যাপটিস্ট চার্চের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পদত্যাগ করেন এবং পরে ডেয়ার টু ইমাজিন চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন।
জুন ২০২৪-এ অ্যাবিসিনিয়ান চার্চের সদস্যরা জনসনকে প্রধান যাজক হিসেবে নির্বাচিত করেন।
তবে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চার্চের কিছু সদস্য অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁরা এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে নির্বাচনের কিছু দিক চার্চের বাইলজ (বিধি)-এর পরিপন্থী ছিল।
অক্টোবরে, চারজন সদস্য নিউ ইয়র্ক স্টেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে, চার্চ কর্তৃপক্ষ এই মামলাটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নির্বাচিত যাজককে অপসারণের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বাদীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রধান যাজক হিসেবে দেখতে চায়।
হার্লেমে অবস্থিত অ্যাবিসিনিয়ান ব্যাপটিস্ট চার্চ একটি ঐতিহাসিক স্থান। রেভারেন্ড অ্যাডাম ক্লেটন পাওয়েল জুনিয়রের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে এই চার্চের খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
তিনি ১৯৩৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চার্চের যাজক ছিলেন এবং ২৬ বছর ধরে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করেছেন। বহু বছর ধরে, অ্যাবিসিনিয়ান নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস