নতুন বছর পড়ার আগেই আবহাওয়াবিদরা আটলান্টিক মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড় মৌসুম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছেন। সাধারণত জুন মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই সময়ে আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দেখা যায়।
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির (CSU) আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এবার এই ঘূর্ণিঝড় মৌসুমটি বেশ সক্রিয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছর আটলান্টিক মহাসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক ঝড় সৃষ্টি হতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্তত ১৭টি ঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৩৯ মাইল বা তার বেশি থাকতে পারে।
এর মধ্যে ৯টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং ৪টি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে, যেগুলিCategory 3 বা তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে।
যদিও গত বছরের পূর্বাভাসে ১১টি ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলা হয়েছিল এবং তা মিলে গিয়েছিল, তবে এবারকার পূর্বাভাসও তাৎপর্যপূর্ণ।
সিএসইউ-এর আবহাওয়াবিদরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এপ্রিল মাসে এই ধরনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন এবং তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারকার ৯টি ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এর আগে তারা আরও সাতবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছিল, যার মধ্যে সবশেষ ছিল ২০২২ ও ২০২৪ সালে।
আবহাওয়াবিদ ফিল ক্লটজবাখের মতে, আবহাওয়া ও সমুদ্রের বিভিন্ন কারণ একত্রিত হয়ে আগামী মাসগুলোতে ঝড়ের সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
তবে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। এপ্রিল মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই বছরের শুরুতে দেওয়া পূর্বাভাসে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উষ্ণ সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং এল নিনোর অনুপস্থিতি এই পূর্বাভাসের মূল কারণ।
আটলান্টিক মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরের জল অত্যাধিক গরম হয়ে আছে।
সাধারণত, উষ্ণ সমুদ্র শক্তিশালী ঝড়ের জন্ম দেয়।
এল নিনো আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা কমাতে পারে, যদিও ২০২৩ সালে এমনটা ঘটেনি।
অন্যদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরে দুর্বল লা নিনার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এল নিনো এবং লা নিনা হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের দুটি পর্যায়, যা আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে।
এই বছর ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের সময় এল নিনোর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
এই কারণে ঝড়ের সংখ্যা বাড়তে পারে।
গরম সমুদ্রের কারণে ঝড়ের তীব্রতাও বাড়তে পারে।
গত বছর বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ সমুদ্রের কারণে ঝড়গুলো দ্রুত গতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা প্রস্তুত হওয়ার জন্য কম সময় দেবে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি ঝড় হয়তো প্রথমে Category 1 পর্যায়ের ছিল, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা Category 5-এ পরিণত হতে পারে।
আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণও বাড়ছে, যার ফলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে এবং বন্যা দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশও ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তাই, এই ধরনের পূর্বাভাসগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন