ফিলিস্তিনের এক বিশিষ্ট ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তার গ্রিন কার্ড বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। শনিবার রাতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মাহমুদ খলিল নামের ওই ফিলিস্তিনি ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আইনজীবী অ্যামি গ্রিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
### গ্রেপ্তারের কারণ ও আইনি জটিলতা
আইনজীবী গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কয়েকজন সদস্য খলিলের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে তাকে হেফাজতে নেয়। তাদের দাবি, স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশে তারা খলিলের ভিসা বাতিল করছেন। গ্রিন কার্ড বাতিলের কারণ জানতে চাইলে, কর্মকর্তারা জানান, এটিও বাতিল করা হচ্ছে। যদিও গ্রিন কার্ড বাতিলের এখতিয়ার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নেই।
খলিল গত ডিসেম্বরে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাকে নিউ জার্সির এলিজাবেথে একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।
### রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরায়েলের গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদে জড়িত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সাথে, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের ব্যর্থতার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ও চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
### বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখালে তবেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিতে পারে। তবে খলিলের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো পরোয়ানা ছিল কিনা, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
### খলিলের ভূমিকা ও অভিযোগ
মাহমুদ খলিল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। গত বসন্তে যখন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তাঁবু স্থাপন করে বিক্ষোভ শুরু করেন, তখন খলিল ছিলেন তাদের প্রধান আলোচক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরুর পরও তিনি জানান, ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খলিলের বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্য এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা তার বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একটি ‘গোপনীয়তা চুক্তি’ (non-disclosure agreement) স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্নাতক ডিগ্রি পেতে বাধা দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে আইনজীবীর হস্তক্ষেপে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
### মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
নিউ ইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মুরাদ আওয়াদেহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “একজন ছাত্রনেতাকে এভাবে গ্রেপ্তার করা মাহমুদ খলিল এবং তার পরিবারের অধিকারের প্রতি চরম আঘাত। বাকস্বাধীনতার উপর এমন আঘাত অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে খলিলকে মুক্তি দিতে হবে।”
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান