ঘুম ভালো করার সহজ উপায় বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। কিন্তু অনেকেরই ঘুমের সমস্যা রয়েছে।
সহজে ঘুম আসতে চায় না বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। সম্প্রতি, বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ উপায়ের কথা বলছেন, যা অনুসরণ করে ঘুমের মান উন্নত করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের জন্য মোজা পরা বেশ কার্যকর হতে পারে। শুনে হয়তো অবাক লাগতে পারে, কিন্তু ঘুমের আগে মোজা পরলে দ্রুত ঘুম আসতে পারে।
এর কারণ হলো, মোজা পরলে পায়ের তাপমাত্রা বাড়ে, যা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দিনের বেলা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে।
রাতে এটি ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যায়, যা ঘুমের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। পায়ের ত্বক গরম হলে শরীরের ভেতরের গরম বাতাস বের হয়ে যেতে পারে, ফলে দ্রুত ঘুম আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের স্লিপ ডিসঅর্ডার সেন্টারের পরিচালক মিশেল ডেরাপ বলেন, “পায়ে মোজা পরলে পায়ের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে দ্রুত ঘুম আসে।”
২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মোজা পরে ঘুমানো তরুণরা মোজা না পরে ঘুমানো তরুণদের চেয়ে প্রায় আট মিনিট দ্রুত ঘুমিয়েছিলেন এবং প্রায় ৩২ মিনিট বেশি সময় ধরে ঘুমিয়েছিলেন।
রাতে তাদের ঘুমও কম ভেঙেছিল।
শুধু মোজা নয়, ঘুমের পরিবেশও ঘুমের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কাছাকাছি রাখা ভালো।
তবে সবার জন্য একই তাপমাত্রা আরামদায়ক নাও হতে পারে। কারো জন্য ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং কারো জন্য ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রাও আরামদায়ক হতে পারে।
তাই নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
ঘুমের আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করাও ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। গোসলের ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ে, যা পরে দ্রুত কমাতে সাহায্য করে এবং ঘুম আনতে সহায়তা করে।
তবে, সবার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। কেউ হয়তো মোজা পরে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কারো পায়ে মোজা থাকলে ঘুম আসতে চায় না।
ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহ’র স্লিপ ওয়েল সেন্টারের অধ্যাপক জেনিফার মুন্ডট বলেন, “যদি মোজা পরে অস্বস্তি হয়, তবে মোজা খুলে ফেলুন। ঘরের তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
নিজের শরীরের কথা শুনুন এবং যা আরামদায়ক মনে হয়, সেটিই করুন।”
ঘুম ভালো করার জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন—নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করা, ঘুমানোর আগে ক্যাফিন ও অ্যালকোহল গ্রহণ না করা এবং ঘুমের আগে হালকা ব্যায়াম করা ইত্যাদি।
পরিশেষে, ভালো ঘুমের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ ভালো ঘুম আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
তথ্য সূত্র: সিএনএন