ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা শিশুদের প্রজনন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে নতুন দিগন্ত।
ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়া শিশুদের ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ফেরাতে এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষা চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ক্যানসার চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রজনন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছোটবেলায় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির কারণে অনেক সময়ই প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই, এই চিকিৎসা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
তবে, বিজ্ঞানীরা এখন তাঁদের জন্য নতুন আশা দেখাচ্ছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে, এখন ক্যানসারের চিকিৎসার আগে শিশুদের শরীর থেকে শুক্রাণু তৈরির মূল কোষ (stem cells) সংরক্ষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই পদ্ধতিতে শিশুদের টেস্টিকল থেকে শুক্রাণু তৈরির মূল কোষ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করা হয়।
পরে, যখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন সেই কোষগুলো আবার তাদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, ক্যানসার চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রজনন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা বিজ্ঞানী ড. কাইল ওরউইগ বলেন, “আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে, এই পরীক্ষাটি সফল হবে কিনা। তবে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এর ফলাফল জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
ভিয়েনা, ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী জাইওয়েন Hsu নামের একজন ব্যক্তি এই পরীক্ষার প্রথম রোগী।
তিনি ছোটবেলায় হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসার সময়, বিজ্ঞানীরা তাঁর টেস্টিকল থেকে শুক্রাণু তৈরির মূল কোষ সংরক্ষণ করেছিলেন।
এখন, সেই কোষগুলো তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জাইওয়েন Hsu বলেন, “এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিজ্ঞান এখনো খুবই নতুন, তাই আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি।”
এই গবেষণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই। বেলজিয়ামের বিজ্ঞানীরাও একই ধরনের একটি পরীক্ষা চালাচ্ছেন।
তাঁরা ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা শিশুদের শরীরে টেস্টিকলের টিস্যু প্রতিস্থাপন করেছেন। এই বিষয়ে ভ্রিজে ইউনিভার্সিটির গবেষক এলেন গোসেন্স বলেন, “পশুদের উপর করা গবেষণা খুবই আশাব্যঞ্জক ছিল।
তবে, মানুষের শরীরে এই পদ্ধতির সফলতার প্রমাণ পাওয়া গেলে, এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের গবেষণা শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অনকোফার্টিলিটি কনসোর্টিয়ামের পরিচালক ড. মাহমুদ সালামা জানান, মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রেও ডিম্বাশয়ের টিস্যু সংরক্ষণের গবেষণা চলছে।
এই গবেষণাগুলো ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
জাইওয়েন Hsu আরও বলেন, “যদি এই পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ নাও হয়, তবুও এটি ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য পথ খুলে দেবে।
আমার বাবা-মা সেই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার কারণে আজ আমি এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছি।”
তথ্য সূত্র: